রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার দুুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যের সরকারী কর্মীদের অনেকেই আশা করেছিলেন বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) নিয়ে কোনও ঘোষণা হবে। কিন্তু তা হল না। সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে সরকারি কর্মীদের বেতন পরিকাঠামো সংশোধন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সপ্তম বেতন কমিশন গঠনে সবুজসঙ্কেত দিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই ঘোষণা করলেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
এটি ছিল রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠক। এক সপ্তাহ আগে, গত সোমবার বসেছিল মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। প্রথম বৈঠকের মতো দ্বিতীয় বৈঠক শেষেও একগুচ্ছ নতুন ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে যে প্রকল্পগুলি চালু ছিল, তা আগামী মাস থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অগ্নিমিত্রা জানান, তথ্য-সংস্কৃতি দফতর, সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে এই ধরনের যে প্রকল্পগুলি ছিল, সেগুলিকে আগামী মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পূর্বতন সরকারের আমলের কোন কোন প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা জানান, পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বৃত্তিমূলক কোনও কর্মসূচি বন্ধ হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
ভোটের প্রচারপর্ব থেকেই বিজেপি বলে আসছিল, রাজ্যে সরকার গঠন করলে তারা মহিলা ভাতা বৃদ্ধি করে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেবে। সেই মতো অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার ওই প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দেয় শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে অগ্নিমিত্রা আশ্বস্ত করেন, “যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদের নাম অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে ‘ট্রান্সফার’ হয়ে যাবে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হবে। যাঁরা এত দিন (লক্ষ্মীর ভান্ডার) পাননি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। শীঘ্রই এই সংক্রান্ত পোর্টাল খোলা হবে।” তিনি আরও জানান, যাঁরা নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-র মাধ্যমে আবেদন করেছেন বা ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাবেন।
আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যে সরকারি বাসে যাতায়াতের জন্য মহিলাদের কোনও ভাড়া দিতে হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নতুন সরকার। সেই প্রকল্পেও সোমবার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। স্বল্পদূরত্বের বাসযাত্রা হোক বা দূরপাল্লার বাসে সফর— উভয় ক্ষেত্রেই সরকারি গণপরিবহণে কোনও ভাড়া দিতে হবে না মহিলা যাত্রীদের। তবে আপাতত সরকারি বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। বর্তমানে সরকারি বাসের যে পরিকাঠামো রয়েছে, তা নিয়েই কাজ চলবে। রাজ্য সরকারের নতুন বাজেট পেশের পরবর্তী সময়ে কিছু বৈদ্যুতিক বাস কেনা হবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
রাজ্যের পূর্বতন সরকারের আমলে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) শংসাপত্র ঘিরে নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা দূর করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। অগ্নিমিত্রা জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরি এবং সরকারি পদে ওবিসি সংরক্ষণের শতকরা হার, রাজ্য তালিকাভুক্ত ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং উপশ্রেণিবিভাগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। তিনি বলেন, “নতুন করে এনকোয়্যারি হবে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে গোষ্ঠীগুলিকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা আশ্বস্ত করেন, সম্পত্তি কর এতদিন যা ছিল, তা-ই থাকবে। এতে কোনও পরিবর্তন হবে না বলে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেন তিনি। পাশাপাশি পুরসভা এলাকায় রাস্তা সংস্কার, বাতিস্তম্ভ মেরামত, আবর্জনা পরিষ্কার বা অন্য কোনও পুর পরিষেবা থমকে থাকলে, সেই কাজগুলিও দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে বলেন অগ্নিমিত্রা। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এ বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পরে অগ্নিমিত্রা আরও জানান, এ বার থেকে ১৫ দিন পর পর রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে বলে স্থির হয়েছে। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ-র বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার আশ্বাস, ধাপে ধাপে সব কিছু নিয়েই আলোচনা হবে। সোমবার যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়নি, পরের বৈঠকগুলিতে তা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে।