শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী ও বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবির উপলক্ষে সজ্জিত বিধানসভা ভবন। — নিজস্ব চিত্র।
অট্টালিকা বৃহৎ। তবে তাতে ঘরের টানাটানি! সঙ্কট মোচনে তৎপরতা শুরু হচ্ছে সরকার পক্ষে।
রাজ্য বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতি নিয়ে এ বার জোরদার লড়াই বেধেছিল। দাবির টক্কর শুরু হয়েছিল বিরোধী দলনেতার ঘর নিয়েও। নতুন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের দাবিকে মান্যতা দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার পদ ও ঘর মঞ্জুর করেছেন। যদিও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দায়ের করা মামলা এখন কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন। বিরোধী দলের দুই শিবিরের এই টানাপড়েনের আড়ালে বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে এলোমেলো হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন শাসক বিজেপির বিধায়কেরা। বেনজির ভাবে, অধিবেশন চলাকালীন শাসক দলের বিধায়কদের মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন হয়েছিল ঐতিহ্যপূর্ণ নৌসর আলি কক্ষে! পরিস্থিতি নজরে আসার পরে শাসক পক্ষের জন্য বিধানসভা ভবনে ঘর খোঁজা শুরু হচ্ছে।
প্রধান বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট ঘর থাকলেও বিধানসভায় শাসক দলের বিধায়কদের একসঙ্গে বসার কোনও জায়গা নেই। সরকার পক্ষের সংখ্যা চিরকালই বেশি থাকে কিন্তু তাঁদের একত্র বসার বন্দোবস্ত আগে হয়নি। মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট ঘর আছে। মুখ্য সরকারি সচেতকের দফতর লাগোয়া ঘরে অনেক সময়েই শাসক শিবিরের বিধায়কেরা বসেন কিন্তু সেখানে জায়গা সীমিত। বিজেপির পরিষদীয় দলের আয়োজনে প্রথম অধিবেশনে মধ্যাহ্ন ভোজের সময়ে শাসক দলের বিধায়কেরা নৌসর আলি কক্ষে গিয়ে খেতে বসেছিলেন। কারণ, সেখানে একসঙ্গে অনেকে বসতে পারেন। দুই বা তিন দফায় বিধায়কেরা ভাগ করে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরেছেন। এই নৌসর আলি কক্ষে অতীতে বিধান পরিষদ থাকাকালীন উচ্চ কক্ষের অধিবেশন বসত। সাম্প্রতিক অতীতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকার পক্ষের পরিষদীয় দলের বৈঠক করেছেন ওই কক্ষে। নতুন বিধানসভা গঠনের পরে এক লপ্তে সব বিধায়কদের শপথ ছাড়া অন্যান্য সময়ে জিতে আসা সদস্যদের শপথ গ্রহণও সচরাচর এই কক্ষেই হয়। নানা ইতিহাসের সাক্ষী সেই ঘরের ‘ডাইনিং হল’ হয়ে ওঠা পরিষদীয় মহলে ঈষৎ চাঞ্চল্যও তৈরি করেছে!
শাসক দলের পরিষদীয় নেতৃত্ব মানছেন, নিরুপায় হয়ে এই কাজ করতে হয়েছে। অধিবেশনের দুই পর্বের বিরতিতে শাসক বিধায়কদের একসঙ্গে বসে আহার সারার মতো জায়গা মিলছিল না। এর সঙ্গে সঙ্গেই জায়গার সন্ধান শুরু করতে চাইছে সরকার পক্ষ। পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলছেন, ‘‘বিধানসভায় সরকার পক্ষের বিধায়কদের বসার জন্য কোনও ঘর দীর্ঘ কাল ধরেই নেই। এটা একটা বড় সমস্যা। সরকারি দলের বিধায়কেরা যাতে বিধানসভায় এসে একসঙ্গে বসতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার দিকে সরকার নজর দিচ্ছে। প্রয়োজনে বিধানসভার মধ্যে নতুন প্ল্যাটিনাম জুবিলি ভবনে কোনও জায়গার ব্যবস্থা হতে পারে কি না, সেটাও দেখা হবে।’’ সূত্রের খবর, পরে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পরে বিধানসভার আসন-সংখ্যা বেড়ে গেলে গোটা বিধানসভাই নিউ টাউনের দিকে কোথাও নিয়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের ভাবনায় রয়েছে। বাম জমানায় হাসিম আব্দুল হালিম স্পিকার থাকাকালীনই নিউ টাউনে বিকল্প জায়গার ভাবনা প্রথম শুরু হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গে ‘হিন্দু হোমল্যান্ডের প্রাণপুরুষ’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এ বার মহাসমারোহে পালন করছে বিজেপি সরকার। বিরোধী দলের এক বিধায়কের মন্তব্য, ‘‘সেই ফজলুল হক মন্ত্রিসভার সদস্য এবং পরবর্তী কালের স্পিকার সৈয়দ নৌসর আলি ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগের বিপক্ষে ছিলেন। দেশ ভাগের পরে তিনি এই বাংলাতেই থেকে গিয়েছিলেন। কালের ফেরে এখন শ্যামাপ্রসাদ পূজিত হচ্ছেন, আর নৌসরের নামাঙ্কিত কক্ষে বিজেপি বিধায়কদের ভোজন হচ্ছে!’’
শাসকের ঘর খোঁজার সময়ে বিরোধীদের ‘ঘরোয়া’ কোন্দলও মেটেনি। ঋতব্রতদের সঙ্গে বসতে চান না বলে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁদের জন্য আলাদা ঘরের আর্জি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। মুখ্যমন্ত্রী বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে পরিষদীয় দফতরকে বিষয়টা দেখতে বলেছিলেন। তবে সরকারি এক সূত্রের মত, তৃণমূল দল তো এখনও একটাই। একই দলের নামে দু’টো আলাদা ঘর কী ভাবে মঞ্জুর করা সম্ভব? ‘বেসরকারি’ ভাবে কোনও বন্দোবস্ত হয় কি না, সেই পথও খুঁজছে সরকার।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে