—প্রতীকী চিত্র।
ওঁরা রেজিস্ট্রি বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আলাদা ধর্মের সাবালক পাত্র-পাত্রীর সে বিয়েতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল পাত্রীর পরিবার ও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের খাগড়ার বাসিন্দা পাত্রের নাম মহম্মদ তিতাস, পাত্রী ত্রিপর্ণা শিকদার। ত্রিপর্ণার ক্ষোভ, ‘‘২১ এপ্রিল মন্দিরে বিয়ে করেছি। ২৮ মে রেজিস্ট্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমে আমার বাবা ও পরে বিজেপির বাধায় রেজিস্ট্রি করতে পারিনি।’’ মন্দিরে বিয়ে করার পর থেকে তিনি তিতাসের বাড়িতেই রয়েছেন। জেলা বিজেপির নেত্রী রুমা চক্রবর্তী কিছু সঙ্গীকে নিয়ে বুধবার সেখানে গিয়ে তিতাসের পরিবারকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
বিজেপি নেত্রী রুমার দাবি, ‘‘ওই মেয়েটির পরিবারের কথাতেই মেয়েটিকে তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ফেরত নিয়ে যেতে গিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়েটি আসেনি। মনে করছি, ওকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে নিজের বাড়িতে আটকে রেখেছে ওই ছেলেটি ও তার পরিবার।’’ তবে তিতাসের মা ঝর্না বেওয়া বলেন, ‘‘ওরা ভালবেসে বিয়ে করেছে। মেয়ে নিজে থেকেই আমাদের বাড়িতে এসেছে। নিজের ইচ্ছেতেই থাকছে।’’ তিতাসেরও দাবি, ‘‘কর্মসূত্রে আমার ও ত্রিপর্ণার সম্পর্ক তৈরি হয়। আমরা এক সঙ্গে থাকতে চাই। কিন্তু আমি অন্য ধর্মের বলে ত্রিপর্ণার পরিবার আমাদের সম্পর্ক মানতে চাইছে না। বুধবার বিজেপির লোকেরা বাড়িতে এসে আমাদেরগালিগালাজ করে।’’
ত্রিপর্ণা বলেন, ‘‘রেজিস্ট্রি বিয়ে করব বলে নোটিস দিয়েছিলাম। সেখানে আমার বাবা তপন শিকদার রেজিস্ট্রারের কাছে অনলাইনে আমাদের বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছেন।’’ তপন এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে আইনজীবী আবু বাক্কার সিদ্দিকী বলেন, ‘‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে এবং মেয়ে যদি বিয়ে করতে চান, আইনত কেউ আটকাতে পারে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘এর পরে কোনও সমস্যা হলে ওঁরা পুলিশকে জানাতে পারেন।’’
তিতাসের পরিবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীররঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। অধীর শুক্রবার বলেন, ‘‘ছেলে এবং মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক। স্বাবলম্বীও। এর ভিতরে অন্যায় কী আছে, জানি না। বিজেপি যা করেছে, তা কখনই কাম্য নয়।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, ‘‘যেমন ঘটেছে, তা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা হচ্ছে।’’ তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘জানি না কী হয়েছে। তবে ছেলেটি মুসলিম, মেয়েটি হিন্দু হলে, পারিবারিক ভাবে বিয়ের আয়োজন হয়। আর যদি মেয়েটি মুসলিম হত আর ছেলেটি হিন্দু হত, তা হলে কী হত? অন্য ছবি দেখতে হত।’’
জেলাশাসক আর অর্জুনের আশ্বাস, ‘‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে