Bishnu Prasad Sharma in TMC

পাহাড়ের গোর্খাল্যান্ডপন্থী বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে! রাজ্যসভা ভোটের আগে ধাক্কা, পদ্মের বিধায়ক সংখ্যা কমে কত হল?

কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ বছর দুয়েক ধরেই বিক্ষুব্ধ। একাধিক বার দলের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙে রাজু বিস্তাকে ফের প্রার্থী করার প্রতিবাদে নির্দল হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৯
Share:

তৃণমূল ভবনে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিচ্ছেন মন্ত্রী শশী পাঁজা (বাঁ দিকে) এবং ব্রাত্য বসু (ডান দিকে)। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।

তৃণমূলে যোগ দিলেন পাহাড়ের বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে এসে দলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। তাঁর যোগদানে উপস্থিত ছিলেন শশী পাঁজা এবং ব্রাত্য বসু। বরাবরই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সোচ্চার তিনি। পৃথক রাজ্যের দাবিতে বিধানসভায় ধর্নাও দিয়েছিলেন। চেয়েছিলেন গণভোটও।

Advertisement

কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ বছর দুয়েক ধরেই বিক্ষুব্ধ। একাধিক বার দলের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙে রাজু বিস্তাকে ফের প্রার্থী করার প্রতিবাদে নির্দল হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দলের সঙ্গে তার পর থেকেই দূরত্ব বাড়ছিল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কেবল তাঁর যোগাযোগ ছিল। মাঝে বিষ্ণুপ্রসাদ অসুস্থ হয়ে পড়লে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন শুভেন্দু। বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে নিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘দলের প্রতি ওঁর হয়তো অভিমান হয়েছে। কিন্তু উনি তৃণমূলে যাবেন না।’’ বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপ্রসাদ তৃণমূলেই যোগ দিলেন।

আগামী মাসে রাজ্যসভার নির্বাচন রয়েছে। তার ঠিক মুখে বিষ্ণুপ্রসাদের তৃণমূলে যোগদান বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এর ফলে রাজ্যে বিজেপি বিধায়কের সংখ্যা কমে হল ৬৪। রাজ্যসভার সাংসদেরা বিধায়কদের ভোটের নিরিখেই নির্বাচিত হন। সে ক্ষেত্রে ওই নির্বাচনে বিজেপির চিন্তা বাড়তে পারে।

Advertisement

বরাবর গোর্খাল্যান্ডের সমর্থক বিষ্ণুপ্রসাদ ঘনিষ্ঠমহলে বলতেন, বিজেপি তাঁকে ‘ধোঁকা’ দিয়েছে। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দল থেকে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করতেন এই বিধায়ক। সূত্রের খবর, গত এক বছর ধরে বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলের ঘরে ঢুকতেন না বিষ্ণুপ্রসাদ। সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে বলতেন, ‘‘যাঁদের সঙ্গে আমার মতের মিল নেই, তাঁদের কাছে যাব না।’’ বিধানসভার অধিবেশনে বিজেপির পরিষদীয় দলের সঙ্গেই বসতেন তিনি। তবে কোনও কর্মসূচিতে যোগ দিতেন না। দলে থেকেও দল থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিলেন। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তার আগে বিজেপি শিবিরে ফের ভাঙন ধরাল তৃণমূল। বিষ্ণুপ্রসাদের যোগদানের সময় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিষ্ণুপ্রসাদের দলবদল নিয়ে বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ‍্য সচেতক শংকর ঘোষ বলেন, ‘‘বেশ কিছু দিন ধরে উনি দল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। আমাদের সাংসদ রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়ে সাত হাজার ভোটও পাননি। তৃণমূল কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওঁকে দলে নিল, জানার আগ্রহ থাকবে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিষ্ণুবাবু একসঙ্গে ডুববে। দার্জিলিং জেলা এবং কার্শিয়াঙের প্রতিটি আসন আমরা জিতব। ওঁর যাওয়ায় রাজনৈতিক ভাবে বিজেপির কোনও ক্ষতি হয়নি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement