বর্ধমানের মন্দির-শহর কালনা হয়ে ‘গঙ্গাবিলাস’ কলকাতায় আসবে আগামী সোমবার। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।
বারাণসী থেকে ১৩ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছে প্রমোদতরী ‘গঙ্গাবিলাস’। বিদেশি যাত্রীদের নিয়ে সেই প্রমোদতরী সোমবারই ঢুকেছে বাংলায়। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় আসবে এবং তার পরে বাংলাদেশে যাবে। সেখান থেকে অসমের ডিব্রুগড়ে শেষ হবে যাত্রা। আপাতত ১২ দিনের সফর চলবে বাংলায়। ঘাটে ঘাটে যাত্রীরা নামবেন এবং স্থানীয় এলাকায় বিভিন্ন পর্যটনস্থল ঘুরে দেখবেন। এই সময়ে বিজেপি কর্মী, নেতাদের স্বাগত জানানোর কর্মসূচি চালাতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এমনই নির্দেশ এসেছে রাজ্য বিজেপির কাছে।
সুইৎজ়ারল্যান্ডের ৩২ জন পর্যটককে নিয়ে গঙ্গা পথে সোমবারই এই প্রমোদতরী বাংলা ছুঁয়েছে। মোট ৫১ দিনে ৩,২০০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দেবে ‘গঙ্গাবিলাস’। যাত্রাপথে পড়বে ভারত এবং বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ২৭টি নদনদী এবং ৫০টি পর্যটনক্ষেত্র। উদ্বোধনের দিনের বক্তৃতায় মোদী বলেন, ‘‘গঙ্গাবিলাস ভারতের পর্যটনকে নতুন যুগে পৌঁছে দিল।’’ মোদীর সেই বার্তা নিয়েই প্রচারে নামার নির্দেশ রাজ্য বিজেপিকে।
প্রমোদতরীর যে পথ, তাতে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ সফর। ফরাক্কা, মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুরে যাবেন পর্যটকরা। রাজ্য বিজেপিকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে প্রতিটি জায়গায় সাংসদ, বিধায়ক, নেতাদের উপস্থিতির পাশাপাশি সাধারণ কর্মীদের জমায়েত চাই। সেখানে মোদী সরকারের উদ্যোগেই যে বিশ্বের দীর্ঘতম পথের প্রমোদতরী তা নিয়ে প্রচার চালাতে হবে সাধারণের মধ্যে। সেই সঙ্গে যাত্রীদের অতিথি হিসাবে বরণ করে নিতে হবে।
এর পরে বর্ধমানের মন্দির-শহর কালনা হয়ে ‘গঙ্গাবিলাস’ কলকাতায় আসবে আগামী সোমবার। শহরে মাদার টেরেজার বাড়ি থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ভ্রমণ করবেন প্রমোদতরীর যাত্রীরা। কলকাতায় পর্যটক বদলও হবে। এখান থেকে কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে এক দল পর্যটক চলে যাবেন সুইৎজ়ারল্যান্ডে। নতুন এক দল বিদেশি পর্যটক বিমানে কলকাতায় এসে উঠবেন প্রমোদতরীতে। ৩১ জানুয়ারি কলকাতা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দিকে যাত্রা। তিন দিন ধরে জল-জঙ্গলের সুন্দরবন ভ্রমণের শেষে চলে যাবে বাংলাদেশে।
দিল্লির নির্দেশ এসে যাওয়ার পরে রাজ্য বিজেপি ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান ও কলকাতায় কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কবে, কোথায় কোন নেতারা উপস্থিত থাকবেন সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।