এনআইএ-র প্রস্তাব তাঁরই, দাবি অধীরের
নিজস্ব সংবাদদাতা • কলকাতা
তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য। সেই সুবাদে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তদন্তে এনআইএ-কে পাঠানোর প্রস্তাব তিনিই প্রথম দিয়েছিলেন বলে দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শনিবার দলের বৈঠকের পরে অধীরবাবু জানান, কিন্তু জবাবে কেন্দ্র তাঁকে বলে, এটা প্রথা নয়। তখন তিনি জানান, প্রথা যা-ই হোক, আইন অনুযায়ী কেন্দ্র চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনার তদন্তে এনআইএ-কে পাঠাতে পারে এবং সেটাই করা উচিত। না হলে সময় নষ্ট হবে এবং সেই সুযোগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ লোপাট হয়ে যাবে। অধীরবাবু বলেন, “রাজ্য এবং কেন্দ্র দু’ পক্ষই অপেক্ষা করে থাকল, কে আগে চোখের পাতা ফেলবে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র চোখের পাতা ফেলল, কিন্তু দেরিতে। অতএব, এনআইএ-র তদন্তে বিলম্ব হওয়ার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র দু’পক্ষই দায়ী।” একই সুরে এ দিন সবংয়ে ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিধায়ক মানস ভুঁইয়াও অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রের এই গোয়েন্দা সংস্থা দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও জঙ্গি কার্যকলাপের মোকাবিলা করে থাকে। তাদের তদন্তে কোনও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করা উচিত নয়।” বর্ধমান-কাণ্ডে তাঁর পুলিশ ভাল কাজ করেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবিরও এ দিন সমালোচনা করেন অধীর। তাঁর কথায়, “নিজের দল বা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে কখনওই শোনা যায় না। ওঁর ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকারই নেই।” একই সঙ্গে বিজেপিকে বিঁধতে অধীর অভিযোগ করেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং গুজরাত দাঙ্গার মতো ঘটনার জেরেই জেহাদি কার্যকলাপ বাড়ছে।
দু’হাজার বন্ধ সমবায় খোলার উদ্যোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা • কলকাতা
বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা রাজ্যের অন্তত দু’হাজার কৃষি সমবায় খুলতে উদ্যোগী হল সমবায় দফতর। শনিবার হাওড়ার শ্যামপুরের বেলপুকুরে পশ্চিমবঙ্গ সমবায় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির অনুষ্ঠানে এ কথা জানান সমবায় মন্ত্রী জ্যোতির্ময় কর। তিনি বলেন, “১৮ নভেম্বর থেকে রাজ্য সমবায় সপ্তাহ পালন করা হবে। তার আগেই যাতে বন্ধ কৃষি উন্নয়ন সমিতিগুলি খোলা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে ব্লক সমবায় ইন্সপেক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” রাজ্যে প্রায় ছ’হাজার সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি রয়েছে। এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ বন্ধ থাকায় বহু চাষি বঞ্চিত হচ্ছেন। কারণ, ন্যূনতম সুদে ঋণ দেওয়া থেকে শুরু করে সার, বীজ, কীটনাশক ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হয় সমবায় থেকে। নাবার্ড এবং সমবায় ব্যাঙ্কগুলিও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে চাষিদের সহায়তা করে এই সমবায়গুলির মাধ্যমেই। মূলত ঋণের টাকা আদায় করতে না পারা, ঋণদানের ক্ষেত্রে সমিতির পরিচালকমণ্ডলীর দুর্নীতি ও স্বজন-পোষণ নিয়মিত অডিট না হওয়া প্রভৃতি কারণেই বহু সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগের নিশ্চয়ই তদন্ত হবে। কিন্তু বন্ধ সমবায়গুলি চালু করাটা গুরুত্বপূর্ণ।” কৃষি সমবায়ের কর্মীদের চাকরির শর্ত এবং বেতন কাঠামো ঠিক করতে একটি রাজ্যওয়াড়ি কমিটি গড়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।
গুরুত্ব মহিলাদের
নিজস্ব সংবাদদাতা • কলকাতা
সাংগঠনিক রদবদল করে দলে মহিলাদের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বে যে বিপুল রদবদল করেছেন, তা থেকেই এটা স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি দলের একাংশের। রদবদলের পর দলের বিভিন্ন পদে ও শাখা সংগঠনের শীর্ষে কারা রয়েছেন, এ দিন তৃণমূলের ওয়েবসাইটে তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকা অনুসারে আট সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় আছেন মহুয়া মৈত্র। দলের মহিলা সংগঠনের রাজ্য সভানেত্রীর পদে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেই রাখা হয়েছে। আবার সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে নেত্রীর ঘনিষ্ঠ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “রদবদলের তালিকাতেই স্পষ্ট, অপপ্রচারের জবাব দিতে দলনেত্রী যুব-ছাত্র ও মহিলাদের গুরুত্ব দিয়েছেন।”