Centeral Government Schemes

থমকে থাকা কেন্দ্রীয় গ্রামীণ প্রকল্পগুলি ফের চালু, ঘোষণা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপের, বাড়তি গুরুত্ব পরিকাঠামো উন্নয়নে

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণ করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৩:৪১
Share:

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূল জমানায় দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প ফের চালু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আসতে শুরু করায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সাল থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কার্যত স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।

Advertisement

মন্ত্রী জানান, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের আওতায় থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএস), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (পিএমওয়াই-জি), প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই), দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন (ডিএওয়াই-এনআরএলএম), রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান (আরজিএসএ), জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি (এমএসএপি) এবং কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্প।

গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৭ মে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এমপাওয়ার্ড কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নীতিগত অনুমোদন মিলেছে বলে জানান মন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণ করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা একশো দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে। ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে থাকা এমজিএনআরইজিএস প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে চালু হতে চলেছে ‘বিকশিত ভারত: গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’। জুন মাস পর্যন্ত বর্তমান নারেগা কাঠামো কার্যকর থাকবে এবং জুলাই থেকে নতুন প্রকল্প চালু হবে। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য পরিবারগুলি বছরে ১২৫ দিনের মজুরিযুক্ত কর্মসংস্থানের অধিকার পাবে। এ ছাড়াও কর্মহীন ৬০ দিনের জন্য আইনানুগ সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে। কেন্দ্র ও রাজ্য ৬০:৪০ অনুপাতে প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করবে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণের আওতায় ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ সমীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালিয়ে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সমীক্ষা শেষ হওয়ার কথা। এরপর যাচাই-বাছাই, গ্রামসভার অনুমোদন এবং জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে এই প্রকল্পগুলির পুনরুজ্জীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই আশা করছে প্রশাসন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement