মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল। ছবি: সংগৃহীত।
করোনা আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তৈরি করেছিল ‘মা ক্যান্টিন’। জায়গায় জায়গায় মাত্র ৫ টাকায় আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই প্রকল্প এখনও চলছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওই প্রকল্প থাকবে। তবে নাম বদলে যাচ্ছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে শুভেন্দুর ক্যাবিনেটের দুই সদস্য দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল জানান, আগের চেয়ে আরও বেশি জায়গায় মিলবে পাঁচ টাকায় আহার। তবে ‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম বদলে হয়ে যাচ্ছে ‘মা আহার।’ দিলীপ বলেন, ‘‘মা আহার নামে আগে ৩৯০টি স্থানে পাঁচ টাকায় আহার দিত। এ বার আরও ১১০ নতুন জায়গায় পাঁচ টাকায় আহার মিলবে। মোট ৫০০টি কেন্দ্র থেকে আহার বিতরণ হবে। প্রকল্পের নাম হবে ‘মা আহার’।’’
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবারই ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনের অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা ঢুকবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, এর পর থেকে যাঁরা যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করবেন, তাঁদের ফর্মের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। বুধবার পাঁচ জন মহিলার হাতে তিন হাজার টাকার চেক তুলে দেন শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রা-দিলীপ।
দিলীপ এবং অগ্নিমিত্রা জানান, মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। দিলীপ জানান, আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মতিথি উপলক্ষে তাঁর নতুন মূর্তি তৈরি হবে। সে জন্য স্থান চিহ্নিত করা হচ্ছে। তা ছাড়া এ বার আর পয়লা বৈশাখ নয়, ২০ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘তথ্যসংস্কৃতি দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এর আগের সরকার পয়লা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করত। আমরা (বিজেপি) বেসরকারি ভাবে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করতাম। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে তৎকালীন আইনসভায় ওই দিনটি ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালিত হয়েছিল এবং প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ বার সরকারি ভাবে ওই দিনটিকে আমরা পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করব।’’
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে ন’টি স্থানে বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে ৩১.৯০৫ একর জমি হস্তান্তর হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গের অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসাবে সুরজিৎনাথ মিত্রের নিয়োগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু এবং ত্রাণ পুনর্বাসন দফতর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ দিনাজপুরের ১১টি জায়গায় বেড়া নির্মাণের পর ১২.৭২১ একর জমি চিরস্থায়ী ভাবে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নাগরাকাটায় ২০ একর জমি বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তারা রেলের প্রকল্পের জন্য ওই জমি রেলকে দিয়ে দেবে।’’ তা ছা়ড়া রয়েছে সেবক-রংপুর ব্রডগেজ রেল লাইনের জন্য রেলওয়েকে নাগরাকাটার ২০ একর খাস জমি দেওয়ার অনুমোদন।
নিকাশি কর্মীদের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এ বার থেকে কাজ করতে গিয়ে শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ এসসি এসটি ওবিসি ডেভলপমেন্ট এন্ড ফাইনান্স কর্পোরেশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত। ৩৫৪টি নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাহী সহকারীদের বেতন মাসিক ১৮ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।