Samik Bhattacharya

শিল্পে হাল ফেরাতে শমীককে বিশেষ দায়িত্বের ভাবনা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়ে গেলেও ৩৫ জন মন্ত্রীর দফতর বণ্টন এখনও হয়নি।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ০৮:২০
Share:

শমীক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূল কংগ্রেসের আমলের দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগের বিরুদ্ধে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে জনসমর্থন পেয়েছে বিজেপি। ‘নেতিবাচক’ ভোট বাক্সে তোলার পাশাপাশি ‘ইতিবাচক’ প্রচারে জোর দেওয়ার কথা বলেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে সরকারে আসার পরে ‘ইতিবাচক’ কাজ করার প্রত্যাশাও এখন বেশি। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে শাসক দল ও সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়ে গেলেও ৩৫ জন মন্ত্রীর দফতর বণ্টন এখনও হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু মঙ্গলবার দিল্লিতে ঝটিকা সফর সেরে কলকাতায় ফেরার পরে আজ, বুধবার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং তার পরে দফতর বণ্টন হওয়ার কথা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠক সেরে শহরে ফিরে এসেছেন। শাসক শিবির সূত্রের ইঙ্গিত, রাজ্যে শিল্পোন্নয়ন নিগমের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে শমীককে। ওই সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু চাইছেন শিল্পোন্নয়ন নিগমের ভার শমীকের হাতে থাকুক। সেই মর্মে তিনি প্রস্তাবও দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে শিল্পমন্ত্রী যিনিই হোন না কেন, নীতি নির্ধারণের প্রশ্নে শমীক তথা বিজেপির নিয়ন্ত্রণ থাকবে। মন্ত্রিসভায় আপাতত অর্থ দফতরের ভার মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই থাকতে পারে। আর নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব আনার লক্ষ্যে দেশের নানা প্রান্তে যে দৌড়োদৌড়ির প্রয়োজন হতে পারে, তা করতে পারবেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি। প্রসঙ্গত, শিল্পোন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান নিয়োগের সঙ্গে বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স-ও নতুন করে গঠন করা হবে।

বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময়ে আগাগোড়া রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের কথা বলে এসেছেন শমীক। কাজের খোঁজে ভিন্ রাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা বা বাধ্যবাধকতা বন্ধ করতে ‘ঘরের ছেলে ঘরেই থাক’ স্লোগান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নির্বাচনী সভা-মঞ্চ থেকেও একই সুর বজায় রেখেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। আবার নতুন সরকার আসার পরে শাসক দলের রাজ্য সভাপতি একাধিক বণিক সভার অনুষ্ঠানে গিয়ে শিল্প ও বিনিয়োগার পক্ষে সওয়াল করেছেন। সিঙ্গুরে টাটাদের প্রকল্প বাতিল হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে টাটাকে রাজ্যে ফেরানোর (যদিও বঙ্গে টাটাদের অন্য বিনিয়োগের কথা বলে তৃণমূল মনে করিয়েছে, টাটারা বাংলা ছাড়েনি) কথাও বলেছেন। সাম্প্রতিক কালে কোনও দলের সভাপতি বা শীর্ষ নেতাকে বণিক সভায় গিয়ে শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে এমন ভাবে কথা বলতে দেখা যায়নি। এই কাজের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই শমীককে এ বার নির্দিষ্ট দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে সূত্রের খবর।

শমীক অবশ্য এই নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন। তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ‘‘মানুষ ভরসা রেখেছেন, বিজেপির সরকার হয়েছে। রাজ্যের উন্নতির জন্য যতটুকু ক্ষুদ্র ভূমিকা পালন করা সম্ভব, করে যাব।’’

তবে শাসক দলেরই এক নেতার কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ইতিহাসে শমীক সফলতম রাজ্য সভাপতি। দলের দায়িত্ব পেয়ে পুরনো নেতা-কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকায় ফিরিয়েছেন, নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। তার পরে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করুন, এমনটাই দলীয় নেতৃত্ব চান।’’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক সমন্বয় রেখে চলছেন। রাজ্য সভাপতির পাশাপাশি শিল্পের জন্য নতুন দায়িত্ব পেলে সেই সমন্বয় আরও বাড়বে বলে বিজেপি সূত্রের মত। শমীক অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারের কাজে দল ‘হস্তক্ষেপ’ করবে না।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভারও রদবদল আসন্ন। সেখানে শমীককে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে বিজেপির অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সফল রাজ্য সভাপতিকে বাংলার বাইরে ব্যস্ত রাখতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আগ্রহী নন বলেই দলীয় সূত্রের খবর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন