ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পৃথিবীর জলবায়ু সংক্রান্ত গবেষণার কাজ করেন ক্লাইমেটোলজিস্ট। ভূগোলের বিশেষ শাখায় তাঁদের পড়াশোনা। জলবায়ুর গতিপ্রকৃতি বা পরিবর্তন নিয়েই বিশদ চর্চা করে থাকেন তাঁরা। ক্লাইমেটোলজিস্ট হওয়ার জন্য দ্বাদশে পড়াশোনা করতে হবে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ে।
কী কী শেখা যায়?
দ্বাদশে কোন বিষয় থাকলে ভাল?
উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যাঁরা পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত কিংবা জীববিদ্যা নিয়ে পড়েছেন, তাঁরা পরবর্তীতে ক্লাইমেটোলজি বিশেষজ্ঞ হতে পারবেন। তবে, ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, এমন দ্বাদশ উত্তীর্ণেরাও বেছে নিতে পারেন এই পেশা।
স্নাতকে কোন বিষয়?
স্নাতক স্তরে ভূগোল, পদার্থবিদ্যা, আর্থ সায়েন্সেস, অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্সেস, মেটেরোলজি-র মধ্যে যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা যেতে পারে। ক্লাইমেটোলজি অর্থাৎ জলবায়ুবিদ্যার খুঁটিনাটি এই সব বিষয় থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে।
ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি) ডিগ্রি কোর্সের অধীনে পড়ুয়ারা ওই বিষয়টি শিখে নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্সেস বিষয়টি শুধুমাত্র ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি (বিটেক) ডিগ্রি কোর্সের অধীনে পড়তে হবে। এ ছাড়াও পড়ুয়ারা ক্লাইমেট মডেলিং, এগ্রিক্লাইমেট, ক্লাইমেট চেঞ্জ পলিসি কিংবা ক্লাইমেটোলজি নিয়েও স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বর্ষে জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ পাবেন।
ভর্তি হওয়ার শর্ত
দ্বাদশের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে উল্লিখিত বিষয়ে স্নাতকে ভর্তি হওয়া সম্ভব। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য অবশ্য কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (কুয়েট) পাশ করা জরুরি।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ
স্নাতকে বিজ্ঞান কিংবা টেকনোলজি শাখার অধীনে ডিগ্রি অর্জনের পর পড়ুয়ারা সরাসরি ক্লাইমেটোলজি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ছাড়াও পড়ুয়ারা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ভর্তি হতে না পারলেও মেটেরোলজি, অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্সেস, এনভারনমেন্টাল সায়েন্স উইথ ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর মতো বিষয় নিয়েও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে যাঁরা টেকনোলজি শাখার অধীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী, তাঁদের জয়েন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ফর মাস্টার্স (জ্যাম) কিংবা গ্র্যাজুয়েশন অ্যাপটিটিউড টেস্ট (গেট) উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
পড়াশোনার সুযোগ কোথায় কেমন?
স্নাতক স্তরে উল্লিখিত বিষয়গুলি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, আইআইটি ভুবনেশ্বর, ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ পড়ানো হয়ে থাকে।
স্নাতকোত্তর স্তরে আবার পুণে বিশ্ববিদ্যালয়, অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি দিল্লি, আইআইটি ভুবনেশ্বর, আইআইটিএম পুণে-তে ক্লাইমেটোলজি, মেটেরোলজি, অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্সেস, এনভারনমেন্টাল সায়েন্স উইথ ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর মতো বিষয়গুলি পড়ানো হয়ে থাকে। ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকেই পরবর্তীতে পিএইচডি এবং গবেষণামূলক কাজেও সুযোগ থাকে।
বিশেষ বিষয়ে জ্ঞান
জলবায়ুর গতিবিধি নিয়ে কাজ করার জন্য গণনায় দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ়-এর সাহায্যে কোডিং-এর কাজও জানা চাই। কারণ বিভিন্ন ধরনের সফট্অয়্যার এবং অ্যাপের মাধ্যমে গবেষণার কাজ করতে হয়। থাকা চাই থার্মোডায়নামিক্স অ্যান্ড ফ্লুইড ডায়নামিক্স-এর জ্ঞানও।
কাজের সুযোগ
স্নাতকোত্তরের পর যাঁরা গবেষণায় আগ্রহী, তাঁরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীনে সহায়ক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। পরে ধাপে ধাপে ক্লাইমেট অ্যানালিস্ট, রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসাবে পদোন্নতি হতে পারে।
এ ছাড়াও আবহাওয়া দফতর, বিমানবন্দর, শিপিং সংস্থায় ক্লাইমেটোলজিস্ট হিসাবে চাকরির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরেও এমন বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে।