মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে আলোচনায় সতর্ক থাকছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণে বিধানসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে দলের বক্তা স্থির করে দেবেন দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ছাড়া সরকারপক্ষের আর কেউ এই আলোচনায় অংশ নেবেন কি না, তাও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সন্ত্রাস দমনে পাশে থাকার কথা ঘোষণা করেও ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও তার পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল। এই সামরিক পদক্ষেপের নামকরণ নিয়েও প্রকাশ্যে নিজের অসন্তোষ জানানোর পাশাপাশি তার রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন মমতা স্বয়ং। ফলে সামগ্রিক ভাবে তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার থাকলেও এ সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন করে বিতর্ক চাইছেন না তৃণমূল নেত্রী। বিশেষ করে বিধানসভার অধিবেশনে এই আলোচনায় দলের কেউ বেফাঁস কিছু না বলেন, তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি নিজের হাতেই রেখেছেন তিনি।
রাজনৈতিক স্তরে এই গোটা পর্ব নিয়ে অন্য বিরোধীদের মতো অনেক প্রশ্নই তুলেছে তৃণমূল। গোয়েন্দা ব্যর্থতা, সুরক্ষায় ঘাটতির মতো একাধিক বিষয় সামনে আনলেও বেফাঁস মন্তব্যের অস্বস্তি এড়াতে বার দুই দলের অন্দরে ‘মুখ বন্ধ রাখা’র নির্দেশিকাও দিয়েছেন দলের রাজ্য নেতৃত্ব। তা সত্বেও দলের এক সাংসদ, এক বিধায়ক সহ নীচের তলায় দু’একজনের মন্তব্যে বিজেপির সমালোচনা শুনতে হয়েছে তৃণমূলকে। বিধানসভার অধিবেশনে সেই পরিস্থিতি এড়াতে দলের বক্তব্যের বিষয়টি পুরোপুরি মমতার হাতেইছাড়া রয়েছে।
তৃণমূলের পরিষদীয় দলের এক নেতার কথায়, ‘‘সন্ত্রাস মোকাবিলায় তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট। বিদেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব ও তাঁর বক্তব্যে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ বা তা নিয়ে বিজেপির রাজনীতির সমালোচনা আছে। দলের নির্দিষ্ট যুক্তিতেই তা মানুষের কাছে নেওয়া হবে।’’ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের যে বিধায়কেরা এই আলোচনায় অংশ নিতে চেয়ে আবেদন করেছেন, তাঁদের সকলকেই সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ বলেন, ‘‘আলোচনার দিনই দলনেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই বক্তা তালিকা চূড়ান্ত হবে।
আগামী মঙ্গলবার বিধানসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আনার কথা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই আলোচনার জন্য দু’ঘণ্টা বরাদ্দ হয়েছে। সরকারপক্ষের এক ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সিংহভাগ বরাদ্দ করার কথা। বাকি সময়ের জন্য অন্য দু’একজন সুযোগ পেতে পারেন। তবে বক্তৃতার আগে দলীয় নেতৃত্ব দলের কথা বুঝিয়ে দেবেন। সেক্ষেত্রে বিরোধী দলও এক ঘণ্টা সময় পাবে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি এই আলোচনায় অংশ নেবে ধরে নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্কে সতর্ক থাকতে চায় সরকারপক্ষ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে