আবর্জনার স্তূপ। — ফাইল চিত্র।
রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপ। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পরিষ্কার করার লোকের দেখা নেই। তবে এ বার থেকে সেই চিন্তা থেকে মুক্তি মিলবে। নতুন অ্যাপ চালু করল রাজ্য সরকার। পোশাকি নাম ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। আবর্জনার স্তূপের ছবি তুলে ওই অ্যাপে পাঠালেই কয়েক মিনিটে তা পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।
শনিবার নিউটাউনে কেন্দ্রীয় আবাসন এবং পুর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে এক কর্মসূচিতে নতুন অ্যাপ চালুর কথা জানানো হয়। শুভেন্দু জানান, আপাতত ১০টি পুরসভায় স্বচ্ছ অ্যাপ চালু হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে সব জায়গাতেই তা শুরু হবে। কোন ১০টি পুরসভা? শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ রাজ্যেও স্বচ্ছতার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আপাতত আসানসোল, দুর্গাপুর, বসিরহাট, পূজালি, তুফানগঞ্জ, কাঁথি, কৃষ্ণনগর, বৈদ্যবাটী, মধ্যমগ্রাম পুরসভায় চালু হচ্ছে নতুন অ্যাপ। পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্বচ্ছতার পাশাপাশি কেন্দ্রের অন্য প্রকল্পগুলির কথাও শোনা যায় শুভেন্দুর গলায়। তাঁর কথায়, ‘‘আগের আমলে রাজ্যে উন্নয়ন যে ভাবে হওয়া উচিত ছিল, সে ভাবে হয়নি। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতীতে সকলের আগে ছিলাম। এখন অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। তবে পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন।’’ শুধু স্বচ্ছতা নয়, রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও জোর দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের পাওয়ার সেক্টরে অনেক কাজ করতে হবে। অনেক জায়গায় বেশি বেশি বিদ্যুতের বিল আসছে। তা রোধ করতে হবে। তার জন্য কেন্দ্রের সূর্যঘর প্রকল্পের উপর কাজ হওয়া উচিত।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের অন্য ২০টি রাজ্যের মতো এখন পশ্চিমবঙ্গও ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা পেতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ এত দিন পিছিয়ে ছিল, কোনও উন্নয়ন হয়নি। শুভেন্দু জানান, বিজেপি সরকারের আসার পর থেকেই একে একে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পগুলির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আর্থিক সহায়তা মিলতে শুরু করেছে।’’
একই সঙ্গে ডিভিসি প্রসঙ্গে আগের সরকারকে খোঁচা দিয়েছেন শুভেন্দু। অতীতে বন্যা বা প্লাবনের জন্য তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার ডিভিসি-কে দায়ী করতেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ডিভিসি নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। রাজ্য সরকারকে না-জানিয়ে তারা জল ছাড়ে। আর সেই কারণেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই বিষয় উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিভিসি-কে মিথ্যা অভিযোগ করত আগের সরকার। আমরা ডিভিসির সঙ্গে মিলে কাজ করব।’’ ভারত সরকারের প্রত্যেক দফতরের সঙ্গে মিলে কাজ করা হবে বলে জানান শুভেন্দু।