নিউ টাউনে বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: ফেসবুক।
শনিবার সকালে বিজেপি নেতা তথা বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর নিউ টাউনের বাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম আলাদা করে মিঠুনের সঙ্গে তিনি বৈঠক করলেন। ঘণ্টাখানেক দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পরে মিঠুনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু জানান, মিঠুন এ রাজ্যে পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর। পাল্টা শুভেন্দুকেও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মিঠুন।
শনিবার থেকে জেলা সফর শুরু করছেন শুভেন্দু। প্রথমেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে তাঁর প্রশাসনিক সভা রয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন। তার আগে জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানকার আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন শুভেন্দু। তবে দিনের শুরুতেই তিনি পৌঁছে যান মিঠুনের বাড়িতে। শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘মিঠুনদা এ রাজ্যে বিজেপির জয়ের অন্যতম কারিগর। আমাকে দল মুখ্যমন্ত্রী করেছে। তার পিছনেও ওঁর হাত রয়েছে। ছ’বছর ধরে রাজ্যে পরিবর্তন আনার জন্য মিঠুনদা অনেক পরিশ্রম করেছেন। নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করেছেন। উনি আমাকে জানিয়েছিলেন, আমার সঙ্গে দেখা করতে যেতে চান। আমি বলেছি, আপনি আসবেন কেন? আপনার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী আপনার কাছে আসবে।’’ শুভেন্দুর এই কথা শুনে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন মিঠুন। শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘মিঠুনদার জনপ্রিয়তা বিজেপির গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই। তার বাইরেও রয়েছে। আমি নিজে অষ্টম শ্রেণির পর আর সিনেমা দেখিনি। তবে মিঠুনদা অন্য জায়গায়। তিনি মহাগুরু। আমি ওঁর আশীর্বাদ নিতে এসেছি।’’
মিঠুনের মতে, শুভেন্দুর চেয়ে ভাল মুখ্যমন্ত্রী আর হয় না। তিনি বলেছেন, ‘‘এর থেকে ভাল মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। আমি গ্যারান্টি দিয়ে এ কথা বলছি। শপথ নেওয়ার পর থেকে উনি কাজ করে চলেছেন। আমাদের সৌভাগ্য ওঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পেয়েছি। ওঁর পিছনেই রয়েছি।’’
বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বিজেপির হয়ে প্রচার করেছিলেন মিঠুন। শুভেন্দু জানান, সেই প্রচার পর্বে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন। সেগুলি এ বার করা হবে। সেই সংক্রান্ত আলোচনাই হয়েছে দু’জনের বৈঠকে। শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে মিঠুন বলেন, ‘‘যেখানে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সব পূরণ করব। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে যে কাজ করতে বলেছেন, তা অনুসরণ করব।’’
মিঠুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর শুভেন্দু সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘বিজেপির কেন্দ্রীয় সমিতির সদস্য তথা বিশিষ্ট অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কলকাতায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করলাম। ২০২১ সালের পর থেকে ২০২৬-এ বিজেপির সরকার গঠন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনের লক্ষ্যে, পশ্চিমবঙ্গের গৌরব ফিরিয়ে আনতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন তিনি। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনদের উপর নির্যাতন বা রাষ্ট্রবাদীদের প্রতি অত্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে যে ভাবে তিনি পাশে থেকেছেন, তার জন্য তাঁকে কুর্ণিশ জানাই।’’