স্বহস্তে আরতি প্রধানমন্ত্রীর। সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয়-সহ অন্যেরা। রবিবার, দক্ষিণেশ্বরে। — নিজস্ব চিত্র
গঙ্গার দিকে ছোট্ট ঘর। ভিতরে খাট, জুতো, পাগড়ি, তানপুরা-সহ পুরনো দিনের কিছু জিনিস। তাতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম সেরে, হাঁটু মুড়ে চোখ বন্ধ করে বসলেন হাফ-হাতা লম্বা সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরা ব্যক্তি। ঘর খালি করে বন্ধ করে দেওয়া হল দরজা। এ ভাবে চলল টানা ২০ মিনিট।
রবিবার সকালে একান্ত নিজের ইচ্ছাতেই বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দের ঘরে ধ্যানমগ্ন হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এ দিন সকালে রাজভবন থেকে সড়কপথে প্রথমে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পৌঁছে পুজো দেন মোদী। সেখান থেকে বেরিয়ে সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি পৌঁছন বেলুড় মঠে। দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড় মঠ পরিদর্শনে মোদীর সঙ্গী ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও বিজেপির-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ। বেলুড় মঠে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুহিতানন্দ-সহ প্রবীণ সন্ন্যাসীরা। খালি পায়েই গাড়ি থেকে নেমে সন্ন্যাসীদের সঙ্গে মোদী প্রথমে যান মূল মন্দিরে। সেখানে শ্রীরামকৃষ্ণের পায়ে ফুল দিয়ে এবং মা সারদার পদধূলি স্পর্শ করে প্রণাম করেন।
এর পরে মোদী যান পুরনো মঠের সামনে আমগাছের তলায়। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন রামকৃষ্ণ বেদ বিদ্যালয়ের ছাত্র ও ব্রহ্মচারীরা। তাঁরা মোদীকে স্তোত্রপাঠ করে শোনান। গলা মেলান ভিভিআইপি অতিথিও। এর পরে তিনি চলে যান স্বামীজির ঘরে।
বেলুড় মঠ সূত্রের খবর, ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল বেলুড় মঠ দর্শনে এসে স্বামীজির ঘরে বেশ কিছুক্ষণ একা সময় কাটিয়েছিলেন মোদী। তাই এ বারও তিনি অনুরোধ করেছিলেন, স্বামীজির ঘরে কিছুক্ষণ ধ্যান করতে চান। সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীরা। তাঁর জন্য এ দিন স্বামীজির ঘর খুলে দেওয়া হয়।
বেলুড় মঠে সহ-অধ্যক্ষ স্বামী প্রভানন্দ-সহ অন্য
সন্ন্যাসীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার। ছবি: সুমন বল্লভ
ধ্যান শেষে ৯টা নাগাদ স্বামীজির ঘর থেকে বেরিয়ে একে একে মোদী ঘুরে দেখেন স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির, মা সারদার মন্দির ও স্বামীজি মন্দির। এর পরে সোজা চলে যান মূল মন্দিরের উল্টো দিকে পুরনো মিশন অফিসের ‘ভিজিটর্স রুমে’। সেখানেই ছিল তাঁর আপ্যায়নের ব্যবস্থা। মোদী পৌঁছতেই তাঁর হাতে প্রসাদী ধুতি, চাদর তুলে দেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সহ-অধ্যক্ষ স্বামী প্রভানন্দ। এ ছাড়াও কিছু দিন আগে ব্রাজিলের রামকৃষ্ণ আশ্রম থেকে আনা পুরনো কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি বাক্স, ঝুড়ি, পেন রাখার জায়গা উপহার দেন স্বামী সুহিতানন্দ। মোদী বলেন, ‘‘আমি দিল্লি গিয়ে এগুলি দেখাব।’ এ দিন সন্ন্যাসীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ভগিনী নিবেদিতার সার্ধশতবর্ষ উদ্যাপন নিয়েও সামান্য আলোচনা হয় মোদীর।
মঠের তরফে এ দিন প্রধানমন্ত্রীকে উপমা, পকোড়া, ফল, চালভাজা, মিষ্টি, পায়েস ও দার্জিলিং চা খেতে দেওয়া হয়। সব কিছু না খেলেও প্রসাদী সন্দেশ এবং পায়েস খান মোদী। এর পরে তিনি সকলের সঙ্গে একটি গ্রুপ-ছবি তোলার ‘আব্দার’ করেন। সেই মতো মূল মন্দিরের সিঁড়িতে সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারীদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মোদীর ছবিও তোলা হয়। আবার সবার সঙ্গে মোদী গেয়ে ওঠেন ‘সহনাভবতু।’
এ দিন বেলুড় মঠে আসার আগে ৭টা ৫০ নাগাদ মোদী প্রথমে যান দক্ষিণেশ্বরে। সেখানে ভবতারিণীর মন্দিরে গিয়ে পা ছুঁয়ে প্রণাম ও আরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। আগের বারের মতো এ বারও নিজের পকেট থাকা পেন বার করে মায়ের পায়ে ছুঁইয়ে নেন। সঙ্গে নেন প্রসাদী ফুল। দর্শন করেন রামকৃষ্ণদেবের শয়নঘর ও কুঠিবাড়িও। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি পরিষদের তরফে কুশল চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে দক্ষিণেশ্বর নিয়ে কিছু প্রকল্পের কথা বললে মোদী দিল্লিতে সেই প্রস্তাব পাঠাতে বলেন। বেলুড় মঠে দর্শন সেরে বালি জুটমিল হেলিপ্যাড থেকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে উড়ে যান আসানসোল।