CM Mamata Banerjee And Election Commission

এসআইআর নিয়ে নাম না-করে জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ মমতার, কমিশনকে ‘টর্চার কমিশন’ বলে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেই সাংবাদিক বৈঠকেই কমিশনকে ‘টর্চার কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩০
Share:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেই সাংবাদিক বৈঠকেই কমিশনকে ‘টর্চার কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন। সঙ্গে অভিযোগ করলেন, নির্বাচন শুরুর কয়েক মাস আগে তড়িঘড়ি এসআইআর চালু করে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। মমতার দাবি, ‘‘এরা তুঘলক ও হিটলারের মতো আচরণ করছে। জনগণই সরকার নির্বাচন করে, কমিশন নয়।”

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, হরিয়ানা, বিহার ও মহারাষ্ট্র থেকেও এসআইআর নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিহারে যে সব নথি গ্রহণযোগ্য, বাংলায় তা কেন মানা হবে না? এই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পাসপোর্ট না থাকলেও রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচয়পত্র, পেনশন পেমেন্ট অর্ডার, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, জীবন বিমার নথি, এমনকি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া ফ্যামিলি রেজিস্টার— এসব বিহারে গ্রহণযোগ্য।’’ তা হলে বাংলায় কেন নয়? প্রশ্ন তাঁর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল শুনানির শেষ দিন। কিন্তু বিকেল ৩টার মধ্যেই লগ-ইন ব্লক করে দেওয়া হয়, ফলে প্রায় এক লক্ষ মানুষ নথি আপলোড করতে পারেননি। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় সামিল।”

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির আইটি সেল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। সংখ্যালঘু, দরিদ্র, তফশিলি জাতি ও জনজাতি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে, তার নিশ্চয়তা নেই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর ক্ষমতা পায়, কিন্তু সেই ক্ষমতারও সীমা আছে। কেউ যদি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, মানুষ এক দিন তার জবাব দেবে।’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এসআইআরের কারণে বহু মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যার দায় কমিশনের।

Advertisement

মমতা বলেন, ‘‘ভোট ভ্যানিশ করে আমাদের শেষ করা যাবে না। বরং আপনারাই ভ্যানিশ হয়ে যাবেন।” তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার আইন মেনে চলবে এবং কমিশনের নির্দেশ অনুসরণ করবে। আমরা সংবিধান মানি। কিন্তু আইনেরও সীমা থাকে।’’ সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের পর এসআইআর ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মানস ভুঁইয়া। —নিজস্ব চিত্র।

অন্য দিকে, এসআইআরের কাজে অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সাত রাজ্য সরকারি আধিকারিককে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁরা এইআরও পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। মঙ্গলবার সংগঠনের চেয়ারম্যান মানস ভুঁইয়া কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘‘এই করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টলানো যাবে না। ৩ লক্ষ ২০ হাজার সরকারি কর্মচারী এর পাশে থাকবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement