মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভার অধিবেশনের এ বার সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। শুক্রবার বিধানসভায় এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, “বিধায়কেরা কী কাজ করছেন, তা নিয়ে ভোটারেরা অন্ধকারে থাকেন। আশা করব, এই ঐতিহাসিক বিধানসভায় জনগণের নজরদারি সুনিশ্চিত করার জন্য লাইভ সম্প্রচার করা হবে। বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার, প্রাইভেট মেম্বার বিল সব সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।” পরে বক্তৃতা করতে উঠে বিধানসভার অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচারের কথা বলার জন্য শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানান ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে কোনও কোনও কোনও অধিবেশনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনে মুখ্যমন্ত্রী বক্তৃতা করলে সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হত। মুখ্যমন্ত্রীর আর্জির প্রেক্ষিতে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম আমলে অবশ্য কোনও দিনই বিধানসভা অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচার হয়নি। তবে এ বার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচারের জন্য দু’টি নির্দিষ্ট চ্যানেল আছে। এই রাজ্যে অবশ্য এখনও তেমন কোনও বন্দোবস্ত নেই।
শুক্রবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। প্রথা মেনে তাঁকে স্পিকারের আসন পর্যন্ত এগিয়ে দেন শুভেন্দু এবং শোভনদেব। তার পর স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন শুভেন্দু। বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। আগের তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “বিধানসভায় শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই নিজেদের বক্তব্য জানাক। ১১ মাস যেন বিরোধী দলের নেতাকে বিধানসভার বাইরে না-রাখা হয়।” বিরোধী দলকে মর্যাদা দিয়ে বিধানসভায় তাদের বেশি করে বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।