Suvendu Adhikari on Training

মন্ত্রীদের প্রশিক্ষণে ‘মর্যাদা’ রক্ষার বার্তা

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী সকলের উদ্দেশে জানিয়েছেন যে পক্ষপাতমূলক মনোভাব থেকে সরকারি কাজ করা চলবে না। নিয়মবিধির ন্যূনতম বিচ্যুতি থাকাও চলবে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:২৭
Share:

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।

শপথগ্রহণেই পক্ষপাতহীন ভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিতে হয় মন্ত্রীদের। শনিবার নেতাজি সুভাষ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (এনএসএটিআই) মন্ত্রিসভার সতীর্থদের তা-ই কাজে করে দেখানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি ফাইল ব্যবস্থাপনা থেকে বাজেট প্রস্তুতি— মন্ত্রীদের জন্য রাজ্যে প্রথম বার এমন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে সড়গড় করানোর রূপরেখাও স্থির করেছে এনএসএটিআই। স্থির হয়েছে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর মন্ত্রীদের এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিগত তৃণমূল সরকারের যে সব গরমিলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে, তাতে নতুন সরকারের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত অনেকের।

সূত্রের দাবি, এ দিন মুখ্যমন্ত্রী সকলের উদ্দেশে জানিয়েছেন যে পক্ষপাতমূলক মনোভাব থেকে সরকারি কাজ করা চলবে না। নিয়মবিধির ন্যূনতম বিচ্যুতি থাকাও চলবে না। যিনি যে দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁকে যে কোনও মূল্যে সরকার, দফতর এবং নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। আধিকারিক স্তর থেকে যে ফাইল মন্ত্রীদের কাছে পৌঁছবে, সেগুলি ভাল করে পড়ে এবং বুঝে পদক্ষেপ করতে হবে। অযথা ফাইল আটকে রাখা চলবে না। জটিল বা আইনগত দিকগুলি সুরক্ষিত রাখতে পরামর্শও নিতে হবে।

বিগত সরকারের কাজের প্রসঙ্গ মন্ত্রীদের প্রশিক্ষণে উচ্চারিত না হলেও আধিকারিকদের অনেকের মতে, আগের সরকারের থেকে পাওয়া ‘শিক্ষা’ কাজে লাগাতে চাইছে নতুন সরকার। কারণ, শিক্ষা, ক্রীড়া, পর্যটন, স্বাস্থ্য, পুর, পরিকাঠামো, সামাজিক-সহ প্রায় সব ক্ষেত্রের কোনও না কোনও কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠছে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতিরও। সরকারি নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিপুল অর্থ খরচের প্রমাণ সামনে আসছে। এই সব বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, আগের আমলের সরকারি ফাইলের কাজকর্মেও বিস্তর গোলমাল ধরা পড়ছে। তাই সম্ভবত এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তি, দফতর এবং সরকারের মর্যাদা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন।

এ দিনের প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত। অবসরপ্রাপ্ত হলেও, রাজ্য এবং কেন্দ্রে দীর্ঘদিন কাজের কারণে নিবিড় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালও এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রবীণতম আধিকারিক। তাঁরও অভিজ্ঞতার পরিধি বেশ চওড়া। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুনীল গুপ্তকেও এ দিন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি উপ-রাষ্ট্রপতির সচিব পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় স্তরের বিশেষজ্ঞদের অনেককেই প্রশিক্ষণে ডাক দেওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, মন্ত্রীরা কী করবেন, এবং কী করবেন না, সবিস্তারে তার ব্যাখ্যাও এ দিন দেওয়া হয়েছে। ই-ফাইল এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও পৃথক ভাবে প্রশিক্ষণ হয়েছে। যে মন্ত্রীদের প্রয়োজন, তাঁদের আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রত্যেক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে থাকতে হবে মন্ত্রীদের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন