নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুর্নীতিতে তাঁর সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারপর্বেও বিজেপি সেই আশ্বাসই দিয়ে এসেছিল। ক্ষমতায় আসার পর তা কার্যক্ষেত্রে করে দেখানোর পালা। রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে চার্জশিট দিতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। অভিযোগ, পূর্বতন সরকার সেই অনুমোদন দীর্ঘ দিন আটকে রেখেছিল। বুধবার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সেই ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন শুভেন্দু।
নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সিবিআই-এর চারটি মামলা গত চার বছর ধরে রাজ্য সরকার আটকে রেখেছিল। যে সমস্ত আধিকারিক দুর্নীতিগ্রস্ত, সিবিআই বা আদালত নিযুক্ত যে কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বা তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার জন্য আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও আধিকারিকদের বাঁচানোর জন্য পূর্বতন সরকার এই অনুমতি আটকে রেখেছিল। তিনটি দফতরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন আমরা সিবিআই-কে দিয়ে দিলাম। ছাড়়পত্রের কপি সিবিআই পেয়ে গিয়েছে।’’
কোন কোন দুর্নীতির ক্ষেত্রে সিবিআই-কে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে? শুভেন্দু জানান, শিক্ষা দফতরের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় দফতরের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে যে সমস্ত তদন্ত হচ্ছে, তাতে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আমাদের এই সরকার অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে এসেছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমরা ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছি। প্রচারের সময়ও বার বার তা বলেছিলাম। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা আমাদের দলের ইস্তাহারেও ছিল। আগামী দিনে সে বিষয়ে আরও পদক্ষেপ দেখতে পাবেন রাজ্যের মানুষ। কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি।’’
শুভেন্দু জানান, নির্বাচনী প্রচার পর্ব থেকেই তাঁর দল দুর্নীতিতে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির আশ্বাস দিয়ে এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তার বাস্তবায়ন হল।
সিবিআই-এর চারটি মামলা গত চার বছর ধরে রাজ্য সরকার আটকে রেখেছিল।
তিলজলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিয়েছি। অবৈধ কারখানার মালিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংস্থাকে স্থায়ী ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি। সিইএসসি-কে বলেছি, এমন অবৈধ কারখানা যত আছে, অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ অডিট করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এক দিনের মধ্যে অবৈধ কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।
উৎপাদনের ক্ষেত্রে জ়িরো টলারেন্স নীতির কথা বার বার প্রচারে বলেছিলাম। সেটা করছি।