আলুর দামে রাশ চান মুখ্যমন্ত্রী

গুদামে আলুর দাম ১২ টাকা। সেই আলুই আবার বাজারে বিক্রি হচ্ছে কোথাও ২০ টাকা কেজি দরে, কোথাও বা ২২ টাকায়!

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৬ ১০:১০
Share:

টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রদীপ আদকের তোলা ছবি।

গুদামে আলুর দাম ১২ টাকা। সেই আলুই আবার বাজারে বিক্রি হচ্ছে কোথাও ২০ টাকা কেজি দরে, কোথাও বা ২২ টাকায়!

Advertisement

এই ছবিটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এক দিন আগেই ডালের আগুন দামে রাশ টানতে মায়ানমার ও আফ্রিকা থেকে ডাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মমতাকে তেমনই ভাবাচ্ছে মূলত আলুর বেড়ে চলা দাম। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি রুখতে বৃহস্পতিবার বিশেষ টাস্ক ফোর্সের বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠক থেকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যে ভাবেই হোক, কৃষকদের ক্ষতি না করে বেঁধে দিতে হবে দাম।

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির যাবতীয় দায় রাজ্যের নয় ঠিকই। কিন্তু রাজনীতিকরা বলেন, চাল-ডাল-আনাজপাতির দাম বাড়লে কেন্দ্রীয় সরকার বরাবর রাজ্যের কোর্টেই বল ঠেলে দেয়। আর আমজনতার ক্ষোভের আঁচটা রাজ্য সরকারের উপরেই এসে পড়ে। নবান্ন সূত্রের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমজনতাকে খানিক সুরাহা দিতে চেয়ে নিজের এক্তিয়ারের মধ্যে থেকেই এ দিন কিছু পদক্ষেপ করেছেন মমতা।

Advertisement

যেমন, খোলা বাজারে আলুর দাম যাতে কম থাকে, সে জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষি বিপণন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যাতে আরও বেশি ‘সুফল বাংলা’ গাড়ি রাস্তায় নামায়। বিভিন্ন বাজারে ১৪ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিনের বৈঠকে মমতা বলেন, আলু ব্যবসায়ী, হিমঘর মালিক এবং কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখাকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে, আলুর দাম যাতে

১৮ টাকা কেজির দরের বেশি না উঠতে পারে।

Advertisement

এর পাশাপাশি, ডাল, মাছ, লঙ্কা এবং টোম্যাটোর চাষ আরও বাড়ানোর উপরে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি মনে করেন, পেঁয়াজের চাষ খানিকটা বেড়েছে। এক লক্ষ টন থেকে বেড়ে পশ্চিমবঙ্গে এখন চার লক্ষ টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যে ডাল চাষ খুব কম হয়। পেঁয়াজের মতোই ডালের উৎপাদন বাড়াতে কৃষিমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসচিব অত্রি ভট্টাচার্য পরে জানান, এখন থেকে পনেরো দিন অন্তর কৃষিপণ্য সরবরাহের মূল্যায়ণ হবে। প্রয়োজন মতো মূল্য নির্ধারণও করা হবে পণ্যের। পাশাপাশি এ-ও দেখা হবে, যাতে চাষিরা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পান। সেই সঙ্গে ন্যায্য মূল্যে সব্জি বিক্রি করার জন্য আরও ৫০টি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি কেনা হবে।

আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার অধিবেশন। বৃহস্পতিবার স্পিকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে বিরোধীরা দাবি করেন, সভায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে পৃথক আলোচনা করতে হবে। কিন্তু সরকার পক্ষ তাতে রাজি হয়নি।

পরে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সরকার শুরু থেকেই মানুষের দাবিকে উপেক্ষা করে চলতে চাইছে।’’ এই প্রসঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজ্যপালের বক্তৃতার ধন্যবাদ প্রস্তাবে আলোচনার সময়েই বিরোধীরা মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলতে পারেন। পৃথক আলোচনার দরকার নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement