এই গাড়ি ঘিরেই বিতর্ক। —নিজস্ব চিত্র।
ফের বিতর্কে আইপ্যাক! সৌজন্যে একটি গাড়ি। শনিবার সন্ধ্যায় বর্ধমান শহরে রাজ্য সরকারের বোর্ড (গভর্নমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল) লাগানো একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে ছুটছিল। শহরের বড়নীলপুর মোড়ে গাড়িটির সঙ্গে এক কংগ্রেস নেতার বাইকের সংঘর্ষ হওয়ার উপক্রম হয়। গৌরব সমাদ্দার নামের ওই কংগ্রেস নেতার দাবি, গাড়ির ভিতরে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা নিজেদের ‘আইপ্যাকের লোক’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। পুলিশের কাছেও এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
শনিবার রাত ৮টা নাগাদ গাড়িটি দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। বড়নীলপুর মোড়ের কাছে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই কংগ্রেস নেতাও। কোনও রকমে দুর্ঘটনা এড়িয়ে গাড়িটিকে মাঝপথেই দাঁড় করান গৌরব। তার পর ফেসবুক লাইভ শুরু করে দেন। আস্তে আস্তে লোকজন জমতে শুরু করে। ফেসবুক লাইভে গৌরবের দাবি, গাড়়ির চালকের বয়স ১৮-র কম বলে মনে হয়েছে। গাড়ির ভিতরে থাকা প্রত্যেকে নিজেদের ‘আইপ্যাকের লোক’ বলে পরিচয় দিয়েছেন বলে দাবি গৌরবের। আইপ্যাকের লোকজন কেন সরকারি বোর্ড লাগানো গাড়ি ব্যবহার করবে, এই প্রশ্ন তোলেন ওই কংগ্রেস নেতা। প্রসঙ্গত, গৌরব রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং কংগ্রেস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি। সমাজমাধ্যমেও পরিচিত মুখ তিনি।
পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনায় থানায় কোনও অভিযোগ হয়নি। এই বিষয়ে গৌরব বলেন, “কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা আমায় জানান যে, তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। গৌরবের প্রশ্ন, গাড়িতে যেখানে রাজ্য সরকারের বোর্ড লাগানো আছে, সেখানে পুলিশ কেন ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছে? বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, “গৌরববাবু সুস্থ আছেন। এটা ভাল খবর। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে। আমরা দেখব, দলের যাতে কোনও বদনাম না হয়।”
বৃহস্পতিবার সকালে ইডির আধিকারিকেরা রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতর এবং ওই কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন। দুপুর ১২টা নাগাদ ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালানোর সময়েই প্রতীকের বাড়িতে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীকের বাড়ি থেকে ফাইল-ল্যাপটপ নিয়ে নিজের গাড়িতে তুলে রাখেন। প্রতীকের বাড়ি থেকে মমতা যান আইপ্যাকের দফতরে। সেখান থেকেও কিছু ফাইল এনে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে রাখা হয়। বিকেল ৪টে ২২ মিনিটে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরোন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ইডির অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মমতা। দাবি, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল হরণ করা হয়েছে। গোপনে চুরি করা হয়েছে দলের নথিপত্র। আইপ্যাক দফতরে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানান মমতা। পরে তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান। তার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। ইডির তরফে এ