বৃহস্পতিবার সকালে দিনহাটা থানার প্রবেশ করার সময় উদয়ন গুহ। —ফাইল চিত্র।
তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহের প্রতি দিন স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর জন্য পুলিশকে বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছিল দিনহাটা মহকুমা আদালত। কিন্তু উত্তেজিত জনতার ডিম-হামলার ‘শিকার’ উদয়নকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চেয়ে থানাতেই স্বাস্থ্যপরীক্ষার করানোর জন্য দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠাল পুলিশ।
বুধবার কলকাতার ফুলবাগানের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়নকে। সড়কপথে তাঁকে কলকাতা থেকে দিনহাটায় নিয়ে যায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ দিনহাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয় উদয়নকে। উদয়ন থানায় রয়েছেন জেনে বাইরে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় কয়েক জন। কমবেশি প্রত্যেকের হাতেই ছিল ডিম। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উদয়নকে হেলমেট পরানো এবং প্রিজ়ন ভ্যানের জানলা বন্ধ করার কৌশল নেয় পুলিশ। কিন্তু উদয়নকে নিয়ে থানা থেকে প্রিজ়ন ভ্যান বেরোতেই গাড়ির বন্ধ জানলা তাক করে পচা ডিম, আলু এমনকি, জুতো ছোড়া হয়। চোর-চোর স্লোগান দিতে দিতে গাড়ির পিছনে ছুটতে থাকেন কয়েক জন।169
বৃহস্পতিবার সকালে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল চত্বরেও আগে থেকে কয়েক জন বিক্ষোভকারী হাজির ছিলেন। উদয়নকে নিয়ে সোজা জরুরি বিভাগে ঢুকে যায় পুলিশের গাড়ি। উদয়ন নামতেই ডিম-আলু ছোড়া হয়। মাথায় না-লাগলেও প্রাক্তন মন্ত্রীর পিঠে ডিম-আলু এসে লাগে। হাসপাতাল থেকে হেলমেট পরিয়েই আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় উদয়নকে। উদয়নকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল পুলিশ। পুলিশের আর্জির প্রেক্ষিতে বিচারক প্রাক্তন মন্ত্রীকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে ৭১ বছরের উদয়নের ২৪ ঘণ্টা অন্তর স্বাস্থ্যপরীক্ষারও নির্দেশ দেন। আদালত থেকে ফের দিনহাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয় উদয়নকে। ২৬ জুন অবধি পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে ‘বয়স এবং নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে দিনহাটা মহকুমার হাসপাতালের সুপারকে চিঠি লিখে দিনহাটা থানার আইসি আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন এক জন মেডিক্যাল অফিসার পাঠিয়ে থানাতেই উদয়নের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশ আপত্তি তুলেছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের মতে, শুধু এক জন মেডিক্যাল অফিসারের নেতৃত্বে থানায় টিম পাঠানোই যথেষ্ট নয়, যথাযথ ভাবে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নানা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রয়োজন। সেগুলি প্রতি দিন এক বার করে থানায় নিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। তা ছাড়া, থানায় বিচারাধীন বন্দির স্বাস্থ্যপরীক্ষার করানোর ‘ব্যতিক্রমী নজির’ তৈরি করতেও আপত্তি রয়েছে জেলার সরকারি চিকিৎসকদের একাংশের।