মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।—ছবি পিটিআই।
করোনা মোকাবিলায় রাজ্যে পরীক্ষার হার কেন বাড়ানো হচ্ছে না, এ বার সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। হু এবং আইসিএমআর-এর বেঁধে দেওয়া এই নীতি মেনে রাজ্যে পরীক্ষার অনুপাত আরও বাড়ানোর দাবি তুলছে তারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার জানান, রাজ্যের সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যে যতটা পরীক্ষা করা সম্ভব, তা-ই করা হচ্ছে। সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে কোভিড পরীক্ষা হয়েছে ৩৪৭০টি নমুনার।
মুখ্যমন্ত্রী বুধবার বলেন, ‘‘টেস্ট, টেস্ট বলে চিৎকার করলেই হবে? আগে তো এখানে মাত্র দু’টো ল্যাবে টেস্ট হচ্ছিল। এখন চার-পাঁচটা ল্যাব বেড়েছে। একটা ল্যাব তো ১০০-র বেশি টেস্ট করতে পারে না। যাঁরা টেস্ট করবেন, তাঁদেরও আমাদের ট্রেনিং দিতে হচ্ছে। ভেন্টিলেটরেরও ট্রেনিং দিতে হচ্ছে। যাঁরা সমালোচনা করে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের লোকেরাই তো কোয়রান্টিনে। প্রার্থনা করি, তাঁরা ভাল হয়ে যান।’’
আরও পড়ুন: রাজস্থান ৩৫ হাজার, পশ্চিমবঙ্গ ৩১০০, কোন রাজ্যে করোনা টেস্ট কত
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের নতুন সংক্রমণ, সক্রিয় করোনা রোগী ১৩২ জন
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার চাহিদা অনুযায়ী পরীক্ষা-কিট পায় কেন্দ্রীয় সংস্থা নাইসেডের কাছ থেকে। পূর্বাঞ্চলের মূল কেন্দ্র হিসেবে নাইসেড পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যেই চাহিদামতো কিট দেয়। নাইসেডের অধিকর্তা শান্তা দত্ত ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, রাজ্য যত কিট চাইবে, তা তাঁরা দিয়েছেন এবং দেবেন। ইতিমধ্যেই ৯০০০ কিট তাঁরা রাজ্যকে দিয়েছেন, আরও ৪০০০ কিট চাওয়া হয়েছে। তা দেওয়া হবে।
দ্রুত বেশিসংখ্যক পরীক্ষা করে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলার পথ দেখিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এ দেশেও কেরল, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ বা ছত্তীসগঢ়ের মতো রাজ্য প্রথম থেকেই বেশি পরীক্ষার দিকে এগিয়েছে। করোনা মোকাবিলায় এ রাজ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর কথায়, ‘‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে বলতে পারি, বেশিসংখ্যক পরীক্ষা করোনা-মুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। করোনা মোকাবিলায় যারা যতটা সাফল্য পেয়েছে, তারা বেশি মাত্রায় পরীক্ষা করেই সেখানে পৌঁছতে পেরেছে।’’ তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি সংখ্যায় করোনা পরীক্ষার প্রবণতা জাতীয় স্তরেও কম।
করোনা-যুদ্ধে গোড়া থেকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পথে থাকলেও পরীক্ষার হার বাড়ানোর দাবিতে চাপ তৈরি করছেন বিরোধীরা। সিপিএম, কংগ্রেস, ফরওয়ার্ড ব্লক, এসইউসি বা সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন— সকলেরই বক্তব্য, পরীক্ষা করে সংক্রমণের তথ্য হাতে পাওয়া না গেলে শুধু লকডাউনে ফল মিলবে না। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, ‘‘রাজনীতি নয়, এটা মানুষের জীবনের প্রশ্ন। রোগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করা না হলে আমরা বাধ্য হব লকডাউনের নিয়ম-বিধি মান্য করেই প্রতিবাদে নামতে।’’
নাইসেডের তথ্য
• ১৩ - ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা ১৬০ (নতুন ১১৩, পুনরায় পরীক্ষা ৪৭)
• ১৩ -১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ১২ কোভিড-পজ়িটিভ
• আইসিএমআর-নাইসেডের কাছে রয়েছে ২৬৯০০ টেস্টিং কিট
কিট বিলি
• পশ্চিমবঙ্গ: ৮১০০ (স্ক্রিনিং), ৯০০ (কনফার্মেটরি)
• ওড়িশা: ৫০০০ (স্ক্রিনিং), ১০০০ (কনফার্মেটরি)
• আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ: ২০০০ (স্ক্রিনিং), ৪০০ (কনফার্মেটরি)
তথ্য সূত্র : আইসিএমআর-নাইসেড
লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বলছেন, ‘‘আতঙ্ক তৈরি করা আমাদের কাজ নয়। কিন্তু ধোঁয়াশা থাকলে আতঙ্ক বাড়বে। মোট ৯ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে তিন হাজার লোকের। রাজ্য সরকারের কাছে দাবি করছি, অবিলম্বে পরীক্ষা বাড়ান।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘‘কেন পরীক্ষা করাচ্ছেন না? কেন গোপন করতে চাইছেন?’’ জবাবে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘রাজনীতিতে ভেসে থাকার জন্য এ সব বলা হচ্ছে! সরকারের নিজস্ব কিছু গোপনীয়তা থাকে বিধি মেনেই, তার বাইরে কিছু গোপন করার নেই।’’
(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)