পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে সিপিএমের মিছিল ও জমায়েত। কলকাতায়। — নিজস্ব চিত্র।
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে শনিবার বৃষ্টি-ভেজা শহরে মিছিল করল সিপিএম। দলের ডাকে নেতা-কর্মীরা শিয়ালদহ এবং হাওড়া ডিআরএম কার্যালয়ের সামনে জমায়েতের পরে দু’টি মিছিল করে পূর্ব রেলের সদর দফতর ফেয়ারলি প্লেসের দিকে যান। পথে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে মিছিল আটকায় পুলিশ। সেখানেই সভা থেকে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারকে বিঁধেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। পাশাপাশি, এ দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পরে ‘হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’র নেতৃত্ব দাবি করেছেন, অক্টোবর, অর্থাৎ পুজোর মাস পর্যন্ত উচ্ছেদ হবে না বলে আশ্বাস মিলেছে।
সিপিএমের ডাকে মিছিল দু’টি রেলের দফতরের দিকে যাওয়ার পথেই ব্যারিকেড করে তা আটকায় পুলিশ। মহম্মদ আলি পার্কের কাছে ম্যাটাডরেই হয়েছে সিপিএমের সভা। সেখান থেকে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “রেল বেআইনি ভাবে বুলডোজ়ার চালিয়ে উচ্ছেদ চালাচ্ছে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচার যে অধিকারের কথা সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। হকারেরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছেন। ডাবল ইঞ্জিন সরকার তাঁদের পায়ে কুড়ুল মারছে। হকার বেআইনি নয়, উচ্ছেদটা বেআইনি। ব্রিটিশ আমলে রেললাইন পাতার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎখাত করা হয়েছিল।” মিছিলে যোগ দিয়ে একই সুরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও বলেছেন, “বিজেপি বুলডোজ়ার সংস্কৃতি চালু করেছে। বুলডোজ়ারের অর্থ ফ্যাসিস্ট মনোভাব। গরিবের বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু বেআইনি বড় নির্মাণ নিয়ে সরকার চুপ। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ আমরা করতে দেব না।” মিছিল ও সভা থেকে সরব হয়েছেন সিটুর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম, সভাপতি অনাদি সাহু, সিপিএম নেতা কল্লোল মজুমদার, অলকেশ দাস, গার্গী চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর শীল-সহ অন্যেরাও।
পাশাপাশি, বর্ধমানের বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, দমদমের কৌশল্যা সিকদার, সন্তোষপুরের নাজিমা বিবি-সহ বেশ কয়েক জন হকার তাঁদের অভিজ্ঞতার কথাও এ দিন তুলে ধরেছেন।
এ দিকে, ‘হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’র তরফে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা-সহ অন্যেরা এ দিন বিধাননগরে বিজেপির দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ গিয়েছিলেন। অসিত বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, অক্টোবর পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ হবে না। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে এই মর্মে নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উনি পুনর্বাসন দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। আগামী সপ্তাহে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হবে। রেলের বিষয়টি আলাদা। তবুও মানবিক কারণে মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে