গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে শ্রমিকদের
মৃত্যু ও জখম হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই জনৈক আসগরের নাম উঠে এসেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার
মধ্যেই সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি করলেন, এই
নির্মাণে আইনের তোয়াক্কা যে করা হয়নি, তা জানিয়ে গত ১১
জুন সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন বন্দর কর্মী ইউনিয়নের তরফে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে
চিঠি দিয়েছিল।
একটি দু’পাতার চিঠিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে সিপিএমের তরফে। তাতে বলা হয়েছে, তারাতলায় বন্দরের জমিতে আসগর যে যে নির্মাণ তৈরি করছেন, তাতে শ্রমিক সুরক্ষার কোনও নিয়মই মানা হচ্ছে না। সেলিম বলেন, ‘‘নাজিরাবাদের গুদামে তৃণমূলের শাসনে শ্রমিকেরা পুড়ে মারা গিয়েছিলেন। এই সরকারের সময়ে জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’’
কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ আবার গোটা বিষয়টি নিয়ে দায় ঠেলেছে কলকাতা পুরসভার ঘাড়ে। কলকাতা বন্দরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় তাঁর জারি করা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্মাণের জন্য জমির সত্ত্বই কেবল বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে দেওয়া হয়। নির্মাণের খুঁটিনাটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যা অনুমতি দেওয়ার, তা কলকাতা পুরসভা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল বেশ কিছু দিন ধরে। গুদামের কয়েক তলা উঁচু ছাদ বুধবার বেলার দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। অনেক শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। এই ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত পাঁচ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। জখম ২০ জন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।