Bus fare Hike

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জেরে বাসভাড়া বৃদ্ধির দাবি, ভাড়া নির্ধারণে কমিটি গঠনের প্রস্তাব বাসমালিকদের

২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে বেসরকারি বাসের ভাড়া আর বাড়ানো হয়নি বলে দাবি করে এ বার ভাড়া পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে রাজ্য পরিবহণ দফতরের কাছে। পাশাপাশি বাসভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি রেগুলেটরি কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১৫:৪৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

লাগাতার পেট্রোল ও ডিজ়েলের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের খরচ বৃদ্ধি এবং পরিবহণ ব্যবসায় ক্রমবর্ধমান লোকসানের জেরে ফের বাসভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলল বেসরকারি বাসমালিক সংগঠন। ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে বেসরকারি বাসের ভাড়া আর বাড়ানো হয়নি বলে দাবি করে এ বার ভাড়া পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে রাজ্য পরিবহণ দফতরের কাছে। পাশাপাশি বাসভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি রেগুলেটরি কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট (ওয়েস্ট বেঙ্গল)-এর সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবহণ দফতরের সচিবকে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই দাবি জানান। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ডিজ়েলের দাম ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। অথচ শেষ বার বাসভাড়া বৃদ্ধি হয়েছিল ২০১৮ সালে। এর পর করোনা অতিমারির সময় পরিবহণ শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এখনও বহু বেসরকারি বাস আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে চলাচল করছে বলে দাবি সংগঠনের।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানির দামবৃদ্ধির পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশ, টায়ার, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের বেতন— সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় বাসমালিকদের উপর আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সংগঠনের দাবি, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

Advertisement

শুধু ভাড়া বৃদ্ধি নয়, পরিবহণ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কথাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের তরফে বাসভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি রেগুলেটরি কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে, যেখানে সরকার, পরিবহণ দফতর এবং বাসমালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এ ছাড়াও একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে বাসমালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। তার মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে টোল ট্যাক্স মকুব, প্রতিটি জেলায় এক জানলা ব্যবস্থা চালু, পুলিশি হয়রানি বন্ধ, নির্দিষ্ট বাসস্টপ চিহ্নিতকরণ এবং ট্রাফিক জরিমানার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত নীতি গ্রহণ।

সংগঠনের দাবি, বাস পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। অন্যথায় বহু বেসরকারি বাস রাস্তায় নামানো কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও এখনও পর্যন্ত পরিবহণ দফতরের তরফে এই প্রস্তাব নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দীর্ঘ দিন পর ফের বাসভাড়া বৃদ্ধির দাবি ওঠায় যাত্রীমহলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও, পরিবহণ দফতরের এক কর্তার কথায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও, এখনও পূর্ণ সময়ের পরিবহণমন্ত্রী আসেননি। নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্ত মন্ত্রীই নিতে পারেন। তাই এ বিষয়ে চটজলদি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement