Bus services from Digha to Nabadwip

পশ্চিমবঙ্গের আধ্যাত্মিক পর্যটন মানচিত্রে দিঘা থেকে মায়াপুরের মধ্যে ভক্তির সেতুবন্ধন: চালু হল বাস পরিষেবা

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, আপাতত মোট দু’টি বাস এই রুটে চলবে। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ২৫০ টাকা। পরিষেবাটি বর্তমানে প্রতি দিন চালু রয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২৬
Share:

রবিবার ছুটির দিনেই শুরু হয়ে গেল দিঘা-নবদ্বীপ বাস পরিষেবা। —নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের আধ্যাত্মিক পর্যটনের মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। সমুদ্রতীরবর্তী জগন্নাথধাম, দিঘা এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভূমি মায়াপুর— এই পর্যটনস্থলকে সরাসরি যুক্ত করে চালু হল দিঘা-মায়াপুর বাস পরিষেবা। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পরিষেবাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি ও জগন্নাথধাম, দিঘার ট্রাস্টি ও প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস।

Advertisement

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, আপাতত মোট দু’টি বাস এই রুটে চলবে। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ২৫০ টাকা। পরিষেবাটি বর্তমানে প্রতি দিন চালু রয়েছে। তবে যাত্রীসংখ্যা ও টিকিট বিক্রির উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এই পরিষেবা অব্যাহত থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সময়সূচি অনুযায়ী, দিঘা থেকে নবদ্বীপের উদ্দেশে বাস চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা বা ৫টার মধ্যে, আর নবদ্বীপ থেকে দিঘার দিকে বাস ছাড়বে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো বা ৩টের মধ্যে। সব মিলিয়ে দিঘা–মায়াপুর সংযোগ পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্ব আধ্যাত্মিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

রাধারমণের মতে, এই বাস পরিষেবা পশ্চিমবঙ্গের আধ্যাত্মিক পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র দিঘা এবং বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র মায়াপুরকে এক সুতোয় বেঁধে রাজ্য কার্যত এক পবিত্র ভক্তি ও সংস্কৃতির করিডর তৈরি করল। এতে দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই রাজ্যের পর্যটন ব্যবস্থাও নতুন গতি পাবে।’’ বিশেষ করে বিদেশি ভক্তদের কথা তুলে ধরেছেন রাধারমণ। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ইসকন ভক্ত মায়াপুরে আসেন। তাঁদের অনেকেই দিঘার জগন্নাথধাম দর্শনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। আগে সেই যাত্রা ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল। নতুন এই সরাসরি বাস পরিষেবার ফলে সেই আধ্যাত্মিক সফর হবে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও পরিকল্পিত— এমনটাই মত তাঁর।

Advertisement

এই উদ্যোগের জন্য রাজ্য সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসকনকর্তা রাধারমণ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত শুধু আধ্যাত্মিক পর্যটনকেই উৎসাহিত করবে না, পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থা, হোটেল ও আতিথেয়তা শিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রাপথের বিভিন্ন ভাবে জেলার স্থানীয় অর্থনীতিও এর ফলে লাভবান হবে। প্রসঙ্গত, গত বছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দিঘায় জগন্নাথধাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর সেই মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে। গত ডিসেম্বর মাসে ইসকনের তরফে দাবি করা হয়েছে, উদ্বোধনের পর মাত্র কয়েক মাসে এক কোটি মানুষ দিঘায় জগন্নাথধাম সংস্কৃতি কেন্দ্রে এসেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement