BJP leaders Unhappy

তৃণমূল স্তরও পদ্মমুখী, ‘অসন্তোষ’ বিজেপিতে

তৃণমূলের টিকিটে জেতা সাংসদদের বড় অংশ নতুন ‘ব্লকে’ সই করার পাশাপাশি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে।

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:৫৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক দলের বিদ্রোহে ক্ষোভ বাড়ছে অন্য দলে।

নির্বাচনে পালাবদলের পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, দলের তৃণমূলীকরণ হতে দেবেন না। তাতে খুশি হয়েছিলেন বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা। কিন্তু আচমকা ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠেন তৃণমূল কংগ্রেসের বেশির ভাগ বিধায়ক। লোকসভার বেশির ভাগ সাংসদও আলাদা গোষ্ঠী করে এনডিএ-র সাহচর্য লাভ করতে চান, রাজ্যসভার সাংসদদের অনেকে পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার সম্ভাবনার খোঁজেও রয়েছেন। ওই সাংসদদের অনুগামী যে তৃণমূল কর্মীরা এক মাস আগেও ঘরবন্দি বা এলাকা-ছাড়া ছিলেন, তাঁরা এখন বিজেপিমুখী হতে চাইছেন বলে সূত্রের খবর। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির নিচুতলায় কর্মী-অসন্তোষ দানা বাঁধছে।

তৃণমূলের টিকিটে জেতা সাংসদদের বড় অংশ নতুন ‘ব্লকে’ সই করার পাশাপাশি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। অনুগামীদের ‘ব্যবস্থা’ করে দিতে ওই সাংসদেরা ফোনও করছেন বলে বিজেপি নেতৃত্বের সূত্রে দাবি। এই প্রেক্ষিতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব দলের কর্মীদের অসন্তোষের আঁচ পাচ্ছেন। যদিও পুরো বিষয়টি দলের শীর্ষ স্তরের নির্দেশে ঘটছে বলে কর্মী-অসন্তোষ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যত ‘উদাসীন’ বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। যদিও বিজেপির এক রাজ্য নেতা বলছেন, “ওঁরা (বিদ্রোহী তৃণমূল) নিজেরাই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত। ওঁরা চেষ্টা করছেন, যাতে কেউ ডিম না-ছোড়েন! কিন্তু এটা আমাদের হাতে নেই। জনতা খেপে আছে।”

এই পরিস্থিতিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ আটকানোর উপায়ও বলছেন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। রাজ্য বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, “ডিম ছোড়া বা গ্রেফতারিটা কলকাতা কেন্দ্রিক হচ্ছে! জেলা স্তরে তা বেশি করে হলে, সবাই আবার (তৃণমূলের লোকজন) ঘরে ঢুকে যাবেন!” কিন্তু এই উপায় নিয়েও সংশয় আছে। কারণ, নানা জায়গায় বিজেপি সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল বা জনপ্রতিনিধি নেই। সেই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল কর্মীরাই শাসক দলের কর্মী হিসেবে মাঠে নামছেন বলে দাবি। যদিও রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের এক বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, “এই চেষ্টা আমাদের এলাকায় হয়েছিল। রুখে দিয়েছি। আমাদের সংগঠন আগে থেকেই শক্তিশালী।” আবার দক্ষিণবঙ্গের গঙ্গা-তীরের এক বিজেপি বিধায়ক বলছেন, “তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বেশির ভাগই বেপাত্তা বা আইনি পথে শ্রীঘরে। কিন্তু (তৃণমূল) কর্মীদের ক্ষেত্রে আমরা কঠিন অবস্থান নিইনি। স্থানীয় নির্বাচনগুলোও তো করতে হবে।” যদিও, ওই বিধায়কের অবস্থানে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট বলেই খবর।

শাসক দলে ঢুকতে শুধু ফোনই আসছে না, অনেক সময় মোটা টাকার টোপও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। যদিও দলের দরজা বন্ধ বলে দাবি বিজেপি নেতাদের। বিজেপির এক যুব নেতা বলছেন, “কারা কী ভাবে দলে ঢোকার চেষ্টা করছেন, সব খবরই আসছে। ওঁরা (তৃণমূলের লোকজন) দলে ঢুকলেও ওঁদের সঙ্গে কী করা হবে, সেটা বুঝতে পারছেন না।” ক্ষোভ রয়েছে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়ে ‘ভাল তৃণমূল’ হয়ে ওঠার চেষ্টা চালানো নেতাদের নিয়েও। যদিও রাজ্য বিজেপির এক নেতা তাঁর দলের কর্মীদের বলেছেন, “ওঁরা কেউ স্বমহিমায় ফিরবেন না। ওঁদের ঠিকানা শ্রীঘরই!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন