মোটা হলেই কি যত বিপদ? ছবি: সংগৃহীত।
সুস্থ থাকার মাপকাঠি কি রোগা থাকা? অনেকেই এই বিষয় সহমত হলেও অনেকেই আবার মোটা থেকেই খুশি। ওজন নিয়ে যেখানে এক দল মানুষ ভীষণ চিন্তিত, অন্য দিকে আরেক দল মানুষ ওজনকে তেমন গুরুত্বই দিতে চান না।
রোগা না হলে কি জীবন ব্যর্থ? এই প্রশ্ন থেকেই যায়। শনিবার বিকেলে কোড ওয়েলনেসের চতুর্থ বর্ষপূর্তির জন্য ভারতীয় জাদুঘরে এক বিতর্কসভা আয়োজিত হল তা নিয়েই। আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন শহরের চিকিৎসক এবং তারকা মহল। চিকিৎসকেরা বললেন পক্ষে, তারকারা বললেন বিপক্ষে। বিতর্কের শুরুতে চিকিৎসক কুণাল সরকার বললেন, ‘‘এক দিনে সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ জন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। যাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষায় ধরা পড়ে প্রায় ৭০ শতাংশের ওবেসিটি রয়েছে। মোটাকে মোটা বলে বডি শেমিং করছি না। এটুকু বলছি, রোগা থাকলে আপনারই আয়ু বাড়বে।’’
মোটা বলে মনে কোনও দুঃখ নেই রাজনীতিবিদ শতরূপার। তিনি বলেন, ‘‘একটা সময় ৩৫ কেজি ওজন কমিয়েছিলাম। এখন আবার ওজন বেড়ে গিয়েছে। রোগা থাকি বা মোটা, আমি কিন্তু নিজেকে ভীষণ পছন্দ করি। আমি এই চেহারা নিয়েও খুশি। কে আমায় মোটা বলল, তাতে আমার কিছু এসে যায় না। যখন ওজনটা কম ছিল, তখন যে আমি খুব খুশি ছিলাম, তা কিন্তু নয়। আমি মনে করি, ফিট থাকলেই হল। আমি হাঁটাহাটি করি, শারীরচর্চাও করি। তবে ফুচকা, নরম পানীয় ছাড়া বেঁচে থাকতে হলে সেই বেঁচে থাকায় কী লাভ বলুন তো?’’
শনিবার বিকেলে কোড ওয়েলনেসের চতুর্থ বর্ষপূর্তির জন্য যাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিতর্ক সভা বসল রোগা হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। —নিজস্ব চিত্র।
রোগা হওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই, এমনই মত চিকিৎসক পুর্ণেন্দু রায়ের। তিনি বলেন, ‘‘সবাই রোগা হতে চেষ্টা করেন আর না পারলে বলেন, মোটা বলে আমার কোনো দুঃখ নেই। সকলেই মনে মনে রোগা হতে চান, তবে বলতে পারেন না। মোটা হওয়া মানেই হাজারটা অসুখ শরীরে বাসা বাঁধবে, আর জীবনের সুখটা চলে যাবে।’’
গায়ক রূপঙ্কর বাগচী মনে করেন, থলথলে পেট নিয়ে বৈভব সূর্যবংশী যদি বাইশ গজে এমন দারুণ চার-ছয় মারতে পারেন, তা হলে মোটা হলে ক্ষতি কি? যদিও গায়ক একটা সময় ডায়েট শুরু করেছিলেন। তবে তিন মাস ডায়েট করেই তাঁর মনে হয়েছিল, ডায়েটের কারণে যে লোভনীয় খাবারগুলি ছেড়ে বেঁচে থাকতে হবে, তার থেকে মরে যাওয়া অনেক ভাল। রূপঙ্করের সঙ্গে সহমত চিত্রনাট্যকার সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘‘আমি যখন রোগা ছিলাম, তখন লোকে বলত, 'ঝড় দিলে তো উড়ে যাবি'। আবার যখন মোটা হলাম, তখন বলল, 'দরজা দিয়ে ঢুকতে পারবি তো?' তাই আপনার ওজন যা-ই হোক আপনার জীবন বৃথা। রোগা হলেই যে আমি দীর্ঘজীবী হব, সেই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে? আমি মনে করি, যত ক্ষণ আপনার মাথাটা মোটা হচ্ছে না, তত ক্ষণ আপনার জীবন সফল।’’
চিকিৎসকেরা এই সব যুক্তি শুনতে একেবারেই নারাজ। তাঁদের সাফ কথা, রোগা না হলে শুধু শারীরিক সমস্যা বাড়বে না, মানসিক সমস্যাও বাড়বে। চিকিৎসক সব্যসাচী মিত্রের মতে, মোটা হওয়া একটা রোগ। এই রোগ জীবনীশক্তি কমিয়ে দেয়। মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ করে।