ভাইকে স্মরণ করে বিশেষ বার্তা শ্বেতার। ছবি: সংগৃহীত।
২০২০ সালের ১৪ জুন। হঠাৎই মেলে দুঃসংবাদ। মুম্বইয়ে নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের নিথর দেহ। ৩৪ বছর বয়সি অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন বিনোদনজগতের সদস্য থেকে তাঁর লক্ষ লক্ষ অনুরাগী। সেই ঘটনার ছ’বছর পার। ভাইয়ের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাজমাধ্যমে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন সুশান্তের দিদি শ্বেতা সিংহ কীর্তি। রামের রূপে দেখলেন ভাইকে। কী লিখলেন?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে রামের রূপে ভাই সুশান্তকে কল্পনা করেছেন শ্বেতা। সেই ছবি ভাগ করে নিয়েছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। সেই সঙ্গে সুশান্তের বেশ কিছু পুরনো ছবিও ভাগ করেছেন তিনি। পোস্টে সুশান্তের স্মৃতি, মূল্যবোধ ও লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে রেখে যাওয়া তাঁর প্রভাব নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন শ্বেতা।
সুশান্ত কী ভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তার থেকে বেশি শ্বেতা মনে রাখতে চান অভিনেতা কী ভাবে জীবন কাটিয়েছিলেন। তিনি লেখেন, “আমি ওর শিশুসুলভ কৌতূহলের কথা ভাবি, জীবনের প্রতি ওর অফুরন্ত আকর্ষণের কথা ভাবি— তারকা, মহাবিশ্ব এবং মানবমনের রহস্যের প্রতি ওর অন্তহীন মুগ্ধতার কথা ভাবি। আমি এমন এক মনের কথা ভাবি, যা যে কোনও মানুষকে সর্বদা মর্যাদা ও সম্মানের চোখে দেখত। আমি এমন একজন মানুষের কথা ভাবি, যে আমাদের শিখিয়েছে, সহমর্মিতা না থাকলে সাফল্যের মূল্য খুবই সামান্য।”
সুশান্তের মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগপ্রবণ শ্বেতা। ছবি: সংগৃহীত।
শ্বেতা আরও লেখেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি সত্য উপলব্ধি করেছেন— ভালবাসা সময়ের নিয়ম মানে না। তাঁর মতে, কোনও মানুষ শারীরিক ভাবে উপস্থিত না থাকলেও তার বিশুদ্ধ আত্মার প্রভাব অসংখ্য মানুষের জীবনে ছড়িয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, যখনই কেউ রাগের পরিবর্তে সহমর্মিতা, অজ্ঞতার পরিবর্তে জ্ঞান, হতাশার পরিবর্তে আশা কিংবা বিচার করার বদলে ভালবাসাকে বেছে নেয়, তখনই সে সুশান্তের আদর্শের একটি অংশ জীবন্ত হয়ে ওঠে।
সুশান্তের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, “সুশান্তের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করা নয়, বরং ও যে মূল্যবোধগুলো ধারণ করেছিল, সেগুলিকে নিজের জীবনে অনুসরণ করাই প্রকৃত শ্রদ্ধা। কৌতূহলী হতে হবে। সদয় হতে হবে। শেখা থামানো যাবে না। নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে। এই পৃথিবী যেন আপনার হৃদয়কে কঠোর করে তুলতে না পারে। জীবনের প্রকৃত মূল্য তার দৈর্ঘ্যে নয়, বরং কতগুলো হৃদয়কে সে স্পর্শ ও জাগ্রত করেছে, তার মধ্যে নিহিত। সেই মাপকাঠিতে বিচার করলে, ভাই (সুশান্ত) আজও আমাদের মধ্যেই বেঁচে আছে। সে এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। চিরকাল ভালবাসায়, স্মরণে থাকবে।”
উল্লেখ্য, সুশান্তের মৃত্যুর পরে তাঁর তৎকালীন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে সিবিআই যে ক্লোজ়ার রিপোর্ট জমা দেয়, সেখানে কোনও ধরনের অসৎ উদ্দেশ্য বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলে জানানো হয়। সিবিআইয়ের ক্লোজ়ার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, রিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রমাণ মেলেনি।