বিবেকানন্দ চক্রবর্তী নিজস্ব চিত্র।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন মেদিনীপুর টাউন স্কুলের (বালক) প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ চক্রবর্তী। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে চিঠি পেয়েছেন তিনি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে দিল্লিতে হাজির থাকার কথা বলা হয়েছে। বিবেকানন্দবাবুর পুরস্কার পাওয়ার খবরে খুশি স্কুলের সহকর্মী থেকে পড়ুয়া সকলেই। আর এই প্রধান শিক্ষকের নিজের কথায়, “সম্মান পেয়ে ভাল লাগছে। আমি সকলের কাছেই কৃতজ্ঞ।”
সংস্কৃতিমনস্ক বিবেকানন্দবাবু একাধিক বই লিখেছেন। চলতি বছরের মে মাসে তাঁর তিনটি গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। গত অগস্ট মাসে আরও তিনটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৬ সালে টাউন স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে স্কুলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও হয়েছে।
২০০৭ সালে স্কুলে ‘প্রাক্তনী’ প্রতিষ্ঠা হয়। ওই বছরই স্কুল চত্বরে একটি ফুলের বাগান তৈরি হয়। ২০০৯ সালে নতুন সভাগৃহ তৈরি হয়। ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন কর্তৃক স্কুল ভবন ‘হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা হয়। ইতিমধ্যে রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থের নামে স্কুলের এক- একটি শ্রেণিকক্ষের নামকরণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে স্কুলে স্মারক তোরণও তৈরি হয়েছে।
বিবেকানন্দবাবুর শিক্ষকতা শুরু ১৯৮৭ সালে। কেশিয়াড়ির জয়কৃষ্ণপুর নেহরু বিদ্যাভবনে। সহ- শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগদান। পরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মোহনপুরের গোমুণ্ডা সুবার্বন হাইস্কুলে। সেখান থেকে মেদিনীপুর টাউন স্কুল। মাস কয়েক আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ‘সিলেকশন কমিটি’ রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের জন্য তাঁর নাম প্রস্তাব করে। রাজ্য শিক্ষা দফতর থেকে তা দিল্লিতে পৌঁছয়। তারপর রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয় তাঁকে।
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, রবীন্দ্র ভারতী সোসাইটি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সমিতি (পশ্চিমবঙ্গ)-র মতো বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত বিবেকানন্দবাবু। নিজে একটি পাক্ষিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। নাম ‘দু- এ পক্ষ’। শিশু কিশোর সাহিত্য একাডেমির ‘বঙ্গ- গৌরব অনন্য সম্মান’, বিশ্ববঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনে ‘বিশ্ববঙ্গ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন তিনি। এ বার প্রাপ্তির তালিকায় আরও এক পালক। বিবেকানন্দবাবু বলছিলেন, “এই পুরস্কার আরও উৎসাহিত করবে। সকলের সহযোগিতায় স্কুলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”