Coal Smuggling Case

চেকেও কয়লার টাকা পুলিশকে, দাবি করল ইডি

তদন্তকারী অফিসারের দাবি, চিন্ময়ের মোবাইল ফোনে ওসি মনোরঞ্জন বলে একটি নম্বর রয়েছে। দেড় কোটি টাকার একটি চেক তাঁকে দেওয়া হয়েছে বলে ওই নম্বরের সঙ্গে ওয়টস্যাপ চ্যাটে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২১
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কয়লা মাফিয়া চিন্ময় মণ্ডল ও তার ভাগ্নে কিরণ খান হাওয়ালা মারফত এবং নগদ টাকা লেনদেনের পাশাপাশি কয়লা পাচারের কালো টাকা পুলিশকর্মীদের চেক মারফতও দিয়েছিল, দাবি ইডির তদন্তকারীদের। এবং ওই সব ‘প্রোটেকশন মানি’ লেনদেনের উল্লেখ তারা ওয়টস্যাপ চ্যাটেও করেছিল বলে ইডির রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের কয়লা পাচারের মামলায় ধৃত মামা-ভাগ্নেকে মঙ্গলবার বিচার ভবনের সিবিআই বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তারা ইডির হেফাজতে রয়েছে।

তদন্তকারী অফিসারের দাবি, চিন্ময়ের মোবাইল ফোনে ওসি মনোরঞ্জন বলে একটি নম্বর রয়েছে। দেড় কোটি টাকার একটি চেক তাঁকে দেওয়া হয়েছে বলে ওই নম্বরের সঙ্গে ওয়টস্যাপ চ্যাটে উল্লেখ করা হয়েছে। ওসি ঘনিষ্ঠ জনৈক ‘প্রবীর’-এর মাধ্যমে ওই টাকা একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে বলেও চ্যাট থেকে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে ২৯ পাতার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী অফিসার। সেখানে চিন্ময়ের ওয়টস্যাপ চ্যাট এবং চেকের ছবিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীর। রিপোর্টের ২০ থেকে ২৮ নম্বর পাতায় পুলিশের একাংশ ও কয়লা সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তকারী অফিসারের কথায়, আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকায় কিরণ, ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী লোকেশ সিংহ, তার দাদা অয়ন সিংহ এবং রমেশ গোপ-সহ আরও কয়েক জনকে নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে চিন্ময়। তার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ‘ওসি মনোরঞ্জন’ ওরফে মনোরঞ্জন মণ্ডল নামে এক পুলিশকর্তা। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৫ সালে বারাবনি থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে কয়লা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘সাসপেন্ড’ করা হয়েছিল।

ইডির এক কর্তা বলেন, “সম্প্রতি তল্লাশিতে চিন্ময়ের বাড়ি থেকে ২৮ লক্ষ টাকা নগদ এবং দু’কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বাজার মূল্যের গয়না উদ্ধার হয়েছে। সেগুলির উৎস দেখাতে পারেনি চিন্ময়। পাশাপাশি মনোরঞ্জনকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হননি। ফের তাঁকে শনিবার তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য নোটিস জারি করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কয়লা সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ‘প্রোটেকশন মানি’ মনোরঞ্জন ও কয়েক জন নিচুতলার পুলিশকর্মীর মাধ্যমে প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছেছিল। সেই কারণে মনোরঞ্জনকে তলব করা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন