Government Scheme

আসবে বকেয়া বরাদ্দ, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বঙ্গে চালু করতে তৎপরতা

মোদী সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হয় রাজ্যে চালুই করেনি অথবা ঠিক ভাবে রূপায়ণ করেনি বলে কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল। প্রকল্প নিয়ে বৈঠকেও রাজ্যের কেউ আসতেন না। রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি না করায় পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজও শুরু হয়নি।

প্রেমাংশু চৌধুরী, অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৯:২৭
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

মনরেগা-র বদলে যখন ভিবি-জিরামজি আইনে গ্রামীণ রোজগার প্রকল্প চালু হবে, তখন পশ্চিমবঙ্গের জন্য টাকা আটকে থাকবে না। চালু হবে আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা, চা শ্রমিকদের উন্নয়ন থেকে মডেল স্কুল তৈরিতে পিএম-শ্রী প্রকল্প। এ বার মোদী সরকারের যাবতীয় প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা তৈরি হতে চলেছে। জনগণনার মতো রাজ্যে আটকে থাকা কাজও শুরু হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ সূত্রের খবর।

মোদী সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হয় রাজ্যে চালুই করেনি অথবা ঠিক ভাবে রূপায়ণ করেনি বলে কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল। প্রকল্প নিয়ে বৈঠকেও রাজ্যের কেউ আসতেন না। রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি না করায় পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজও শুরু হয়নি।

মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যের মানুষের সমর্থনকে সম্মান দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তার পরেই, তৃণমূল আমলে রাজ্যে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে গতি আনতে মোদী সরকারের সমস্ত মন্ত্রক তৎপর হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রেল কিংবা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে যে প্রকল্পগুলি রূপায়ণে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা, জমি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, সেই প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শুরুকরতেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয়ে নীতি আয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বাংলার ভোটের মধ্যেই অর্থনীতিবিদ তথা রাজ্যের গত পাঁচ বছরের বিধায়ক অশোক কুমার লাহিড়ীকে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ করা হয়েছে। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতাও কাজে লাগবে।

প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল এ দিন বলেন, ‘‘দেশে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের ফারাক নিয়ে অনেক কথা হয়। আসল সমস্যা হল, পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের ফারাক। পূর্ব ভারত পশ্চিমের তুলনায় বেশ গরিব। পূর্ব ভারতের পুনরুজ্জীবনের চাবিকাঠি হল কলকাতার উন্নয়ন। যা বৃদ্ধির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।’’

‘নীল বিপ্লব’-এর লক্ষ্যে মৎস্যচাষিদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা চালু হয়েছিল। নীতিগত ভাবে ওই প্রকল্পে তৃণমূল সরকার সাড়া দিলেও ২০২২-২৩ সালে ওই খাতে দেওয়া ১১৪ কোটি টাকার মধ্যে কেবল ৫৮ কোটি টাকা খরচ করেছিল। তার পরে আর উচ্চবাচ্য করেনি। জমি না দেওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগানো ও সীমান্ত চৌকি তৈরির কাজওআটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। রেলের অন্তত ডজনখানেক প্রকল্প জমির সমস্যা, পূর্ত দফতরের অসহযোগিতায় আটকে ছিল। কেন্দ্রের আশা, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারে এই সমস্যা কাটবে।

প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য বিমার প্রকল্প চালু হবে। তৃণমূল সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে পিএম-শ্রী (প্রধানমন্ত্রী স্কুল ফর রাইজিংইন্ডিয়া) যোজনায় মডেল স্কুল তৈরিতেও সায় দেয়নি। এ সবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার কাজও বাংলায় দ্রুত চালু করতে চাইছে মোদী সরকার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন