SIR in West Bengal

বিএলও-দের কাজে গাফিলতি হলে বা নির্দেশ অমান্য করলে এফআইআর! সব রাজ্যে সিইও দফতরকে নির্দেশ দিল কমিশন

বিএলও-রা কমিশনের নির্দেশ না-মানলে বা কাজে গাফিলতি করলে, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এফআইআর-ও দায়ের করার কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩০
Share:

বিএলও-রা নির্দেশ না মানলে কী করণীয়, সব রাজ্যের সিইও দফতরকে নির্দেশ দিল কমিশন। — প্রতীকী চিত্র।

বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-দের কাজে গাফিলতি হলে বা নির্দেশ অমান্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে এফআইআরও দায়ের করা যেতে পারে। সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-কে চিঠি পাঠিয়ে তা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। বিএলও-রা ঠিক মতো কাজ না-করলে কী কী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে দু’পাতার ওই চিঠিতে।

Advertisement

কমিশনের তরফে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাজে গাফিলতি, দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না-করা, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা, আইন বা নিয়ম ভাঙা এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে বিএলও-দের বিরুদ্ধে। কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠলে কী করণীয়, তা-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

সব রাজ্যের সিইও-কে কমিশন জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করবেন জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও)। এর পরে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করতে হবে। এই সুপারিশ দ্রুত কার্যকর করতে হবে এবং ৬ মাসের মধ্যে যাতে পদক্ষেপ করা হয়, তা জানাতে হবে।

Advertisement

একই সঙ্গে চিঠিতে এ-ও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি কোনও ফৌজদারি অপরাধমূলক হয়, তবে সিইও-র অনুমতি নিয়ে অবিলম্বে ওই বিএলও-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবেন ডিইও। এ ছাড়া সব রাজ্যের সিইও-রা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অথবা ডিইও এবং ইআরও-দের রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনও বিএলও-কে সাসপেন্ড করা, তাঁর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং এফআইআর দায়ের করার মতো পদক্ষেপ করতে পারবেন।

দু’পাতার ওই চিঠিতে এ-ও বলা হয়েছে, সিইও যা নির্দেশ দেবেন, তা-ই কার্যকর করতে হবে ডিইও-কে। সিইও-র অনুমতি ছাড়া এই ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের নিষ্পত্তি করা যাবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।

কমিশনের এই নির্দেশিকার পরে ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “বিএলও-রা যেহেতু তৃণমূল স্তরে কাজ করছেন, তাই সব দায় তাঁদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা তো উপরতলার নির্দেশ পালন করছেন। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে ইআরও এবং এইআরও-দের নিয়ে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা নিয়ে নির্বাচন কমিশন উচ্চবাচ্চ করছে না কেন? তবে কোনও বিএলও দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করলে, আমাদের কিছু বলার নেই।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement