গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি পুলিশের কাছে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বুধবার সংবাদমাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে সিইও কার্যালয় জানিয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই আধিকারিকদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে, যাঁরা সাংবিধানিক দায়িত্বে এসআইআর পরিচালনা করছেন। গোটা নির্বাচনী আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে এসআইআর বানচাল করার চেষ্টা হচ্ছে। সিইও কার্যালয় মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনিক কর্তারা জনস্বার্থে কাজ করতে দায়বদ্ধ। ফলে সব চক্রান্তের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করা হবে। মঙ্গলবারই কমিশন জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে লোকপাল আইন অনুযায়ী তখনই এফআইআর দায়ের করা যায়, যখন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তার প্রমাণ থাকে।
অন্য দিকে, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া কোনও ওবিসি শংসাপত্র এসআইআরের কাজে ব্যবহার করা যাবে না বলে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের এই নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়েছিল। সূত্রের দাবি, ওবিসির আওতায় যে জাতিগুলি রয়েছে, তার মধ্যে ১১৩টিকে বাতিল ধরা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের তরফে যে ৬৪টি ক্যাটাগরিকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়, সেগুলিকে মান্যতা দিচ্ছে রাজ্য। সেই ক্যাটাগরিগুলিকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রমাণপত্র হিসেবে ধরবে কমিশন।
একই সঙ্গে কমিশন জানাল, ‘বাংলার বাড়ি’র শংসাপত্র এবং ‘পারিবারিক রেজিস্টার’ও গ্রহণযোগ্য নয়। কমিশনের তালিকাভুক্ত নথিগুলির মধ্যে একটি নথি ‘পারিবারিক রেজিস্টার’ হওয়ার পরেও কেন তা গ্রহণ করা যাবে না? কমিশনের বক্তব্য, এ রাজ্যে তেমন নথি তৈরির সুনির্দিষ্ট বিধি না থাকায় এখন তা তৈরি হলেও গ্রহণযোগ্য হবে না।
পুরুলিয়ায় একটি মৃত্যুর ঘটনার পরে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং সিইও মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানতে পেরেছে সিইও কার্যালয়। সেই কার্যালয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ আইনবিরুদ্ধ। তাঁদের পাল্টা প্রশ্ন— এর আগে ভুয়ো ভোটার নিয়ে রাজ্যকে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তখন সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। অথচ এখন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে প্রমাণ ছাড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে। আইন ভেঙে এফআইআর দায়ের হলে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে কমিশনে কাছেও। অতীতে যত মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, প্রতিটিতে প্রশাসনিক রিপোর্ট চাওয়া হলেও, তা কমিশনকে দেওয়া হয়নি কোন উদ্দেশ্যে, সেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা নিয়েও।
কমিশন শুরুতেই যখন বৈধ নথিগুলি তালিকাভুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, প্রায় তখন থেকেই তার কাছাকাছি মিল থাকা নথি তৈরি শুরু হয় জেলায় জেলায়। যেমন, পারিবারিক রেজিস্টার। প্রশাসনিক মতে, সুনির্দিষ্ট বিধির আওতায় এমন নথি দেওয়ার চল রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক বা বিহারে। তবে এ রাজ্যে এমন রেজিস্টার তৈরির বিধি ছিল না। যদিও চলতি এসআইআর পর্বে এমন রেজিস্টার তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসারদের (সিডিপিও) মাধ্যমে। যাঁরা প্রধানত অঙ্গনওয়াড়ি সুপারভাইজার বা সমতুল পদে কর্মরত। এমন নথি তৈরির দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। কমিশন জানিয়েছে, এই নথি প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা হবে না। বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট বিধির বাইরে কোনও নথি আপলোড এবং তা গ্রাহ্য করা হলে দায় বর্তাবে জেলাশাসক-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। এক কর্তার কথায়, “যে নথি তৈরির সুনির্দিষ্ট বিধি এ রাজ্যে নেই, সেই নথি তৈরি এবং গ্রহণ হবে কোন যুক্তিতে? এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে বলেই কমিশনকে পদক্ষেপ করতে হচ্ছে।”
স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র কমিশনের তালিকাভুক্ত হলেও, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, পিআরসি পেতে অনেকগুলি প্রশাসনিক ধাপ পেরোতে হয়। তার মধ্যে— আবেদনকারীকে এক ঠিকানায় কমপক্ষে ১৫ বছর বসবাস করতে হয়, থাকতে হয় নিজস্ব বাড়ি। তার ভিত্তিতে পিআরসি দেওয়া হয়। ফলে সেই নথি চটজলদি পাওয়া সম্ভব নয়। তবু তা হচ্ছে জেলায় জেলায়। তাই এ নিয়ে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের থেকে সবিস্তার ব্যাখ্যা তলব করেছিল সিইও-র কার্যালয়। স্বরাষ্ট্র দফতরের থেকে পাওয়া সেই ব্যাখ্যা দিল্লির নির্বাচন সদনে পাঠিয়ে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকে এখনও পর্যন্ত নতুন নাম তোলার আবেদন জমা পড়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ১৭৯টি। নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে ৩৬ হাজার ২৪১টি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে