Kailash Vijayvargiya

সাংবাদিকের প্রশ্নে বিজয়বর্গীয় মেজাজ হারালেন! পাল্টা রুখে দাঁড়ালেন প্রশ্নকর্তা, ‘আপনি অভিজ্ঞ মন্ত্রী, এমন মুখের ভাষা?’

বুধবার রাতে মন্ত্রী বিজয়বর্গীয়কে দৃশ্যমাধ্যমের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, কেন অসুস্থেরা চিকিৎসার টাকা পাচ্ছেন না? কেন পরিষ্কার পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৩
Share:

সাংবাদিকের প্রশ্নে মেজাজ হারালেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

‘বিষাক্ত’ পানীয় জলে মৃত্যু নিয়ে শোরগোল চলছে মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের ভগীরথপুরে। ইতিমধ্যেই সেখানে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুশোরও বেশি মানুষ। অভিযোগ উঠেছে অনেকেই হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ পাচ্ছেন না। ঘটনাচক্রে, ভগীরথপুরা এলাকাটি রাজ্যের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা ইনদওর-১ এর বিধায়ক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের বিধানসভা এলাকার মধ্যে। ফলে এলাকার বিধায়ক হিসাবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে। সেখানেই এক দৃশ্যমাধ্যম সাংবাদিকের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

Advertisement

যে ভাবে ওই ঘটনা এগিয়েছে, তার উদাহরণ সাম্প্রতিক কালে এ দেশে বিরল। প্রথমত, এখন প্রায় কোনও সাংবাদিকই ক্ষমতাসীনদের অপ্রিয় প্রশ্ন করেন না। করলেও রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের উপেক্ষা বা কটাক্ষের সামনে অধিকাংশ সাংবাদিকই মিইয়ে যান বা চুপ করে যান। কিন্তু ওই সাংবাদিক তা করেননি। বরং তিনি পাল্টা বিজয়বর্গীয়কে বলেন, একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রী হিসাবে তাঁর শব্দ ব্যবহারে আরও সতর্ক এবং যত্নবান হওয়া উচিত। দু’জনের বাগ্‌বিতন্ডার দৃশ্য পুরোটাই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের চ্যানেলের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এবং ‘বিরল’ বলেই ওই দৃশ্য সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার রাতে বিজয়বর্গীয়কে সামনে পেয়ে এনডিটিভি-র ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কেন অসুস্থেরা চিকিৎসার টাকা পাচ্ছেন না? কেন পরিষ্কার পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না? সাংবাদিকের প্রশ্নে মেজাজ হারান মন্ত্রী বিজয়বর্গীয়। তিনি সাংবাদিককে বলেন, ‘‘আরে! ছাড়ুন, এ রকম বেকার প্রশ্ন কেন করছেন?’’ মন্ত্রী হাঁটতে হাঁটতেই বাক্যটি বলেন। সাংবাদিকও তাঁর পাশে হাঁটতে হাঁটতে এবং মন্ত্রীর মুখের সামনে হাতের ‘বুম’ ধরে রেখে বলেন, তিনি কোনও ভিত্তিহীন প্রশ্ন করছেন না। তিনি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে এসেই ওই কথাগুলি জিজ্ঞাসা করেছেন। তাতে দৃশ্যতই আরও ক্রুদ্ধ হন বিজয়বর্গীয়। সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তাতে ঘণ্টা হয়েছে!’’

Advertisement

প্রসঙ্গত, ‘ঘণ্টা’ শব্দটি হিন্দিতে বোঝানো হয় ঘটনা বা কথার লঘুত্ব বোঝাতে। বিজয়বর্গীয়ের ব্যবহৃত ‘ঘণ্টা হয়েছে’ শব্দবন্ধের বঙ্গানুবাদ হতে পারে, ‘তাতে কী এল-গেল?’ সম্ভবত বিজয়বর্গীয় ভেবেছিলেন, তাঁর কথায় দমে যাবেন ওই সাংবাদিক। কিন্তু সাংবাদিক সটান প্রতিবাদ করেন। তিনি মন্ত্রীকে পাল্টা বলেন, ‘‘কৈলাসজি, আপনি এ ভাবে কথা বলতে পারেন না! আপনি একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রী। আপনার মুখে এই কথা শোভা পায় না। ঘণ্টা, ঘণ্টা….এটা কী ধরনের শব্দ!’’ মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর কিছু সাঙ্গোপাঙ্গ। তাঁরা ওই সাংবাদিককে সরে যেতে বলেন। ওই সাংবাদিক তখন রুখে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘আমি তো চলে যাবই। কিন্তু ওঁকে ওঁর মুখের ভাষা ঠিক করতে বলুন!’’

সেখানেও বাগ্‌বিতন্ডা থামেনি। মন্ত্রীর এক সঙ্গী আবার সাংবাদিককে সরে যেতে বলেন। ওই সাংবাদিক তাঁকে জবাব দেন, ‘‘প্রশ্ন তো ওঁকে করছি! আপনার সমস্যা কিসের? আপনি কথা কেন বলছেন?’’ কুর্তা-পাজামা পরিহিত ওই ব্যক্তি তখন বিজয়বর্গীয় (তিনি ততক্ষণে গাড়িতে উঠে গিয়েছেন) সম্পর্কে বলেন, ‘‘উনি আমাদের নেতা!’’ সাংবাদিক বলেন, ‘‘তো কী হয়েছে? তা বলে আমাকে ঘণ্টা বলবেন? ১০ জন মারা গিয়েছে! সেই বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারব না? আমি কী ওঁকে কোনও গালাগালি দিয়েছি?’’ বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গী আবার বলেন, ‘‘আপনি কি যা খুশি বলবেন? উনি আমাদের নেতা।’’ সাংবাদিক পাল্টা ওই লোকটিকে বলেন, ‘‘যান, নিজেদের কাজ করুন!’’

সাংবাদিকের সঙ্গে বিজয়বর্গীয়ের বাগ্‌বিতন্ডার ভিডিয়ো বুধবার রাত থেকেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তার পরে ওই শব্দপ্রয়োগের জন্য নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে ক্ষমা চেয়ে নেন বিজয়বর্গীয়। পরে তিনি বলেন, ‘‘আমি এবং আমার অফিসারেরা দিনরাত এক করে গত দু’দিন ধরে পরিস্থিতি সামলাচ্ছি। আমারও পরিচিত অনেকে এই ঘটনার শিকার। তাঁদের মধ্যে কারও কারও মৃত্যুও হয়েছে।’’

মধ্যপ্রদেশ সরকারের রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, ডায়েরিয়ার কারণে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ২১২ জন। ৫০ জনকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অসুস্থদের অবস্থা ছাপিয়ে অনেক বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে বিজয়বর্গীয় এবং ওই সাংবাদিকের মধ্যে বাগ্‌বিতন্ডা নিয়ে। বিজয়বর্গীয় এর আগেও এই ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছেন। ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মারধর করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন তাঁর পুত্র। বিজেপির প্রবীণ এই নেতা একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পদে নিযুক্ত ছিলেন। তখনও তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরে রাজ্য বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় বিজেপির অন্দরে বিজয়বর্গীয়কে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। তার পরেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement