ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত। (ইনসেটে) মৃত শিশু আবায়ন।
আট বার দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ শহরের তকমা পাওয়া মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে এখন কান্নার রোল। পুরসভার সরবরাহ করা জল পান করে ওই শহরের ভগীরথপুরায় এখনও পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক। সেই মৃতের তালিকায় রয়েছে ছ’মাসের আবায়ানও। ভগীরথপুরার সাহু পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান। সাহু দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পর আবায়নের জন্ম হয়।
জানা গিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর আবায়নকে খাওয়ানোর জন্য দুধের সঙ্গে জল মিশিয়েছিলেন তার মা। সেই জলই প্রাণ কেড়ে নিল খুদের। পুরসভার সরবরাহ করা কলের জল মেশানো হয়েছিল। কিন্তু সেই জল যে ‘বিষাক্ত’, তা কারও ধারণাতেই আসেনি। আবায়নের মা জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর কিছু পর থেকেই বমি করতে শুরু করে। দুধ ঘন থাকার কারণে সেটিকে পাতলা করার জন্য কলের জল মেশানো হয়েছিল। যাতে সহজে আবায়নের হজম হয়। কিন্তু খাওয়ানোর পর থেকে আবায়ন বমি করতে শুরু করে।
আবায়নের বাবা সুনীল সাহু জানিয়েছেন, বার বার বমি করায় ছেলেকে স্থানীয় এক শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। তিনি কিছু ওষুধ দেন। সেগুলিই খাওয়ানো হচ্ছিল। কিন্তু বমির পর খিঁচুনি শুরু হয় আবায়নের। তার পরই মৃত্যু হয় তার। সুনীলের দাবি, পুরসভার ‘বিষাক্ত’ জলের কারণেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক মৃত্যুতে হুলস্থুল পড়ে যায়। এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ভগীরথপুরায় হাজারেরও বেশি মানুষের শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। কারও কারও বমি, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। যাঁদের মধ্যে ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু অসুস্থতার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে দাবি। একের পর এক মৃত্যু হওয়ায়, কারণ খতিয়ে দেখার জন্য তৎপর হয় প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পুরসভার পানীয় জলের পাইপ লিক করায় তার মধ্যে নালা এবং শৌচাগারের জল মিশছিল। যার জেরে ভগীরথপুরায় ঘরে ঘরে ডায়েরিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
ঘটনাচক্রে, মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে ভগীরথপুরা। তিনি আবার রাজ্যের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। এই ঘটনায় যে গাফিলতি ছিল, তা স্বীকার করেছেন তিনি। যাঁরা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তবে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, ডায়েরিয়ার কারণে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ২১২ জন। ৫০ জনকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিজয়বর্গীয়। তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, ভগীরথপুরার অনেকেই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু সেই খরচের টাকা কেন পাচ্ছেন না তাঁরা? কেন এলাকাবাসীর জন্য পরিষ্কার জলের ব্যবস্থা করা হয়নি? এই প্রশ্ন শুনেই মেজাজ হারান মন্ত্রী। তার পরই আপত্তিজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। যদিও পরে তিনি ভুলস্বীকার করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি এবং আমার অফিসারেরা দিনরাত এক করে গত দু’দিন ধরে পরিস্থিতি সামলাচ্ছি। আমারও পরিচিত অনেকে এই ঘটনার শিকার। কারও আবার মৃত্যুও হয়েছে।’’