—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে সপ্তাহ পেরোতে চলল। কিন্তু রবিবারও রাজ্যের সব ব্লক, পঞ্চায়েত অফিস বা পুরসভায় এসআইআরে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) এবং ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারদের তালিকা টাঙানো গেল না। শীর্ষ আদালত গত সোমবার এই নির্দেশ দেওয়ার পরে, নির্বাচন কমিশন ২৪ জানুয়ারির মধ্যে তা করার কথা বলেছিল। নির্ধারিত সেই দিনে বহু জেলায় ওই তালিকা টাঙানো যায়নি। রবিবার অনেক জায়গায় তা হলেও, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর, নানা জেলারই অনেক ব্লকে আবার তালিকা দেখা যায়নি।
বিভিন্ন জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে তালিকা মিলেছে। অনেক জায়গাতেই তা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে রবিবার ছুটির কারণে কর্মী কম থাকায়, কিছু জায়গায় তা ছাপিয়ে টাঙানো সম্ভব হয়নি। আজ, সোমবারও ছুটি থাকায়, সর্বত্র তা হয়ে উঠবে কি না, সংশয় রয়েছে। কমিশন সূত্রেরও বক্তব্য, তালিকা প্রকাশ করা শুরু হয়েছে। রবি ও সোমবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের ছুটি। দ্রুত তাহয়ে যাবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সব জায়গায় যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির তালিকা টাঙানো হয়নি রবিবার। তালিকা না দেখতে পেয়ে গড়বেতা, মেদিনীপুর ও শালবনি বিধানসভা এলাকায় অনেক ভোটার ক্ষোভ জানান। ওই জেলারই খড়্গপুর ও ঘাটালে ভিন্ন ছবি। ঘাটালের বেশ কিছু জায়গায় তালিকা দেখতে ভিড় হয়। ঝাড়গ্রামের সমস্ত ব্লক অফিস ও পঞ্চায়েতে তালিকা ঝোলানো হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের অধিকাংশ ব্লক, পঞ্চায়েত ও পুরসভার ওয়ার্ড অফিসে গিয়ে এ দিন বিকেল পর্যন্ত ভোটারেরা তালিকা দেখতে পাননি বলে অভিযোগ। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষের দাবি, ‘‘সন্ধ্যার মধ্যে হয়ে যাবে।’’ জেলার কর্তারা জানান, পঞ্চায়েতগুলিকে অনলাইনে তালিকা পাঠানো হয়েছে। মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুরে বেশির ভাগ ব্লকে তালিকা টাঙানো হয়নি। তবে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুরের নানা ব্লকে তা দেখা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে তালিকা টাঙানো না হলেও ডায়মন্ড হারবারে তা হয়েছে। বাঁকুড়া জেলার পুরসভাগুলিতে টাঙানো হলেও, বেশ কিছু পঞ্চায়েতের দাবি, তারা তালিকা পায়নি। কিছু পঞ্চায়েত জানায়, ছুটির পরে মঙ্গলবার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। হুগলি, পুরুলিয়ারও সব জায়গার ভোটারেরা এ দিন তালিকা দেখতে পাননি। তবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়ার প্রায় সর্বত্র এ কাজ হয়ে গিয়েছে, দাবি প্রশাসনের।
এ দিন নানা জায়গায় আবার শুনানিতে আসা ভোটারদের নথি নিয়ে রসিদ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলায় এমন অভিযোগ ওঠে। ঝাড়গ্রামেও অনেক ক্ষেত্রে এই অভিযোগ ওঠে। বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি পঞ্চায়েতের পচাপানিতে শেখ ইসমাইল আলির কথায়, ‘‘আমাকে রসিদ দেওয়া হয়নি।’’ ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) গোবিন্দ দত্ত বলেন, ‘‘কেন রসিদ দেওয়া হয়নি, খোঁজ নিচ্ছি।’’ পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনের একাংশের দাবি, অনেকে তাড়াহুড়ো করে রসিদ না নিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে