— প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যের পাঠানো অফিসারদের তালিকা নিয়ে আবার চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। গ্রুপ-বি মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের তালিকা নিয়ে এ বার রাজ্যের কাছে জানতে চাইল সিইও দফতর। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের পাঠানো তালিকায় থাকা ৩০ শতাংশ গ্রুপ-সি কর্মীদের বর্ধিত মাইনের নিরিখে গ্রুপ-বি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, বর্ধিত বেতনের নিরিখে কি র্যাঙ্ক পরিবর্তন করা যায়?
কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের পাঠানো তালিকায় ৪৪০ জন ইতিমধ্যেই এইআরও হিসাবে কাজ করছেন। তার পরেও তাঁদের নাম কী ভাবে পাঠানো হল, তারও ব্যাখ্যা রাজ্যের কাছে জানতে চেয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর। কমিশন সূত্রের খবর, ৮,৫০৫ জনের তালিকায় ৬,০০০ জনের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়েছে রাজ্য। তার মধ্যে রয়েছে গ্রুপ-বি এবং গ্রুপ-সি।
কমিশন জানিয়েছে, কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই ৮,৫০৫ জন ইআরও- কে সাহায্য করবেন। জেলাশাসক তথা ডিইও-দের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোথায় কে কে রিপোর্ট করেছেন। তবে কাজে যোগ দিলে আদৌ কাজ শুরু করতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয় স্পষ্ট কিছু জানায়নি কমিশন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলায় সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি। তাই বাইরের রাজ্য থেকে আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হয়েছে। কমিশনের ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত রাজ্য সরকারকে তালিকা দিতে বলেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছিল, কত জন গ্রুপ-বি আধিকারিককে রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজের জন্য দিতে পারবে, তা ৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে।
সেই মতো গত ৭ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের কাজে ৮,৫০৫ কর্মীর তালিকা কমিশনের হাতে তুলে দেয় রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টেও সেই বিষয়টি জানানো হয়। শীর্ষ আদালত জানায়, এই কর্মীদের সবাইকে গ্রুপ-বি পদমর্যাদার হতে হবে। তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের সঙ্গে শুধুমাত্র ইআরও-দের সাহায্য করতে পারবেন। যদিও কোর্টে কমিশনের বক্তব্য ছিল, রাজ্যের পাঠানো তালিকায় সবাই গ্রুপ-বি অফিসার নন। তালিকায় অন্য অফিসারেরাও রয়েছেন। গ্রুপ-সি এবং এইআরও হিসাবে কাজ করেছেন, এমন অফিসারও রয়েছেন।
এর পরে ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃত ভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেসের বিষয়বস্তু বিকৃত করছে, যা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণ অনুসারে করা হয়েছে।
এ বার রাজ্যকে চিঠি পাঠাল কমিশন। গ্রুপ-বি মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের তালিকা নিয়ে জানতে চাইল।