Dearness allowance

‘রাজ্য আমাদের সঙ্গে তঞ্চকতা করছে’! ডিএ-র অঙ্ক নিয়ে খুশি নন আন্দোলনকারী কর্মীরা! ফের আদালতের যাওয়ার হুঁশিয়ারি

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত শুক্রবার থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থ সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে, তাতে বিস্তর গলদ রয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ২১:১৬
Share:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে নবান্ন। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত শুক্রবার থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থ সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, তাতে বিস্তর গলদ রয়েছে। তবে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন প্রত্যাশিত ভাবেই সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধী সংগঠনগুলির দাবির সমালোচনা করেছে।

Advertisement

৩১ মার্চের মধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের যাবতীয় বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার রাতে অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশ্যে আসে একটি বিজ্ঞপ্তি। ২৩ মার্চ নবান্নের তরফে প্রকাশিত ওই সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য এই ঘোষণা করা হয়। পূর্বে প্রকাশিত ১৩ মার্চের দু’টি বিজ্ঞপ্তির আংশিক পরিবর্তন করে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ডিএ ও ডিয়ারনেস রিলিফ (ডিআর) সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে।

কিন্তু প্রাপ্যের অর্ধেক কিংবা তার থেকেও কম অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিএম সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘আসলে ডিএ দেওয়ার নামে আমাদের সঙ্গে চূড়ান্ত তঞ্চকতা করা হয়েছে। আমরা এর জবাব আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দেব। তেমনই ভোটবাক্সে রাজ্য সরকারকে বুঝিয়ে দেব, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার হরণ করলে কী হয়! বকেয়া ডিএ-র ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অর্থ সরকারি কর্মচারীদের পাওয়ার কথা, তার অর্ধেকেরও কম অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমরা রাজ্য সরকারকে ছেড়ে কথা বলব না।’’

Advertisement

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘‘বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রার কমিটিকে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে বকেয়া মেটানোর জন্য দায়িত্ব দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাই আমাদের বকেয়া পাওনার থেকে অনেক কম পরিমাণ অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা সেই কমিটিকে জানাব। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হবে মঞ্চের তরফে।’’ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন জমা দিয়ে আগামী এপ্রিল মাসের শুনানিতে তা তুলে ধরা হবে বলেও জানানো হয়েছে। শনিবার রাতে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশে আসার পর সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে তাদের আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও হয়েছে আহ্বায়ক ভাস্করের।

বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘যখনই অর্থ দফতর থেকে নির্দেশ দিয়ে জানানো হল যে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে মিটিয়ে দেওয়া হবে, তখনই বুঝেছিলাম এর নেপথ্যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য আছে। আমাদের আশঙ্কাই সত্যি হল। সরকার শুধু হিসাবেই কারচুপি করছে না, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ দেওয়ার নির্দেশকেও পুরো অমান্য করেছে। এর সমাধান তো আদালতে হবে, কিন্তু আমাদের প্রশ্ন রাজ্যের সিংহভাগ কর্মী — মূলত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অধিগৃহীত সংস্থার কর্মীদের বিষয়ে সরকার এখন উচ্চবাচ্য করছে না কেন? তাঁরা ৩১ মার্চের মধ্যে কোনও টাকা পাবেন, এ রকম নিশ্চয়তা আছে?’’

ঘটনাচক্রে, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার এক ঘণ্টা আগে ১৫ মার্চ ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সমাজমাধ্যমে যে পোস্টটি করেছিলেন, তাতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমোদিত স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদান প্রাপ্ত সংস্থাগুলিও ডিএ পাওয়ার অধিকারী— এ কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রোপা-২০০৯ অনুযায়ী ডিএ বকেয়া মার্চ ২০২৬ থেকে দেওয়া শুরু হবে। কিন্তু সরকারি কর্মচারী ছাড়া এখনও পর্যন্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমোদিত স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদান প্রাপ্ত সংস্থাগুলিও ডিএর আভাস পাননি বলেই অভিযোগ।

তবে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘‘আমরা আমাদের সংগঠনের তরফে বলতে চাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিএ নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য সরকার ডিএ মেটানোর জন্য তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। প্রথমে ডিএ দু’দফায় দেওয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মার্চ মাসের মধ্যেই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সব পদক্ষেপ করা হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে। যারা মুখ্যমন্ত্রীর ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে, তারা সব পরিস্থিতিতেই তাঁর বিরোধিতা করবে। কিন্তু আমরা আমাদের সরকারি কর্মচারী দরদি মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই আছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement