মাঠে পড়ে আলু, ৬ই বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

আপাতদৃষ্টিতে নোট বাতিলের প্রভাব পড়েনি রাজ্যের আলু চাষে। উল্টে রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। এতেও বিপত্তি কম নয়। আমজনতা খোলা বাজারে কম দামে আলু পাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু চাষিরা দাম পাচ্ছেন না মোটেই। ফলে মাঠের আলু মাঠেই পড়ে থাকছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৭ ০২:৪৭
Share:

আপাতদৃষ্টিতে নোট বাতিলের প্রভাব পড়েনি রাজ্যের আলু চাষে। উল্টে রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। এতেও বিপত্তি কম নয়। আমজনতা খোলা বাজারে কম দামে আলু পাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু চাষিরা দাম পাচ্ছেন না মোটেই। ফলে মাঠের আলু মাঠেই পড়ে থাকছে।

Advertisement

পরিস্থিতি এমনই ঘোরালো হয়েছে যে, হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে সরকারকে। নবান্নের খবর, আলু নিয়ে সোমবার বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষি ও কৃষি বিপণন কর্তারা ছাড়াও আলু ব্যবসায়ী ও হিমঘর-মালিকদের ডাকা হয়েছে।

কংগ্রেস বিধায়কেরা বৃহস্পতিবার আলু, টম্যাটো, পেঁয়াজের মালা পরে বিধানসভায় ঢোকেন। আলুচাষিদের সমস্যা নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার অনুমতি না-মেলায় তাঁরা এবং বামেরা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। বিধানসভা-চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়ে পরে তাঁরা ফের সভায় যোগ দেন।

Advertisement

প্রশাসনের একাংশের ধারণা ছিল, নোট বাতিলের জেরে এ বার আলুর চাষ মার খাবে। সরকার কী ভাবে চাষিদের সাহায্য করবে, সে-দিকেই বেশি নজর ছিল কৃষি দফতরের। কৃষিকর্তারা জানান, এ বছর এক কোটি ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ২০ মেট্রিক টন বেশি। ফলে দু’দিন আগেও পাইকারি বাজারে জ্যোতি আলু বিকিয়েছে দু’টাকা কেজি দরে। তবে বুধবার থেকে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, সরকারের এগিয়ে আসার বার্তার পরেই পাইকারি বাজারে আলুর দাম কেজিতে দেড় টাকা বেড়ে গিয়েছে।

নবান্নের এক কর্তা বলেন, ‘‘চাষিরা যাতে ন্যূনতম দাম পান, তার জন্য সরকার বেশি দামে আলু কিনতে পারে। সবই ঠিক হবে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে।’’ অন্য একটি সূত্রের খবর, সরকারের তরফে হিমঘর-মালিকদের কাছে প্রস্তাব গিয়েছে, ন্যায্য দামে তাঁরা যেন চাষিদের থেকে আলু কিনে নেন। এতে হিমঘরে রাখার খরচ বহন থেকে চাষিরা রেহাই পাবেন। হিমঘর-মালিকদের একাংশের বক্তব্য, কেনাবেচার প্রক্রিয়ায় সরকার কী শর্ত জারি করে, তা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকার বললে সেই নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা যে তাঁদের নেই, সেটা মানছেন অনেকেই।

Advertisement

এ রাজ্যে বছরে গড়ে ৬২ লক্ষ টন আলু লাগে। বাড়তি আলু ভিন্ রাজ্যে রফতানি হয়। কিন্তু এ বার অন্য রাজ্যেও ফলন ভাল। ফলে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। কৃষি দফতরের খবর, হিমঘর-মালিকেরা আলু কিনলে ব্যাঙ্কঋণের ব্যাপারে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে সরকার। ২০০ বস্তার জন্য ঋণ মিলবে ৪৬ হাজার টাকা। পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসের টোকেন নিয়ে হিমঘরে গেলে চাষিরা কুইন্টাল-পিছু দাম পাবেন ৪৬০ টাকা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement