(বাঁ দিকে) ফিরহাদ হাকিম এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভায় আরও শক্তিবৃদ্ধি করতে চলেছে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী? এই জল্পনা উস্কে সোমবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সোমবার দুপুরে বিধানসভায় ঢোকেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ। বিধানসভায় ঢুকে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার সঙ্গে যান ঋতব্রতের ঘরে। ফিরহাদ-ঋতব্রত এই সাক্ষাৎকে ঘিরেই জল্পনা ছড়িয়েছে।
শুক্রবার কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত ফিরহাদ, যিনি রাজ্য রাজনীতিতে ‘ববি’ নামেই সমধিক পরিচিত। অন্য দিকে, প্রায়ই ঋতব্রতদের তরফে দাবি করা হচ্ছে যে, বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূলের আরও কয়েক জন বিধায়ক। এই আবহে মমতা-ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ ঋতব্রতদের শিবিরে শামিল হবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সম্প্রতি ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত এবং সন্দীপন ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছিল। ছিল সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি সাহার নাম। মুখ্যসচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল আখরুজ্জামানের নাম। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের সভানেত্রী বলে উল্লেখ করেন বিদ্রোহীরা।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেবকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত এবং সন্দীপনই সই জাল করার বিষয়টি বিধানসভাকে জানান। তার পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করছে সিআইডি। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই সিআইডি কয়েক জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।