(বাঁ দিকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (ডান দিকে) —ফাইল চিত্র।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত তৃণমূল পরিষদীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সোমবার মামলাটি করতে চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সূত্রের খবর, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক বৈধতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শোভনদেব। তাঁর আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে মামলাটির দ্রুত শুনানি করা হোক। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১১ জুন এই মামলার শুনানি হবে। এই সময়ের মধ্যে অন্য পক্ষকে নোটিস জারি করা হবে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির ঠিক এক মাসের মাথায়, গত বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ভাঙন ধরেছিল তৃণমূলে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়! ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের তিন সহকারী দলনেতার তালিকায় ঠাঁই পান আর এক বিদ্রোহী সন্দীপন সাহা। তৃণমূল বিধায়কদের ‘সই-জালিয়াতি’র কথা স্পিকারকে লিখিত ভাবে জানানোর ‘অপরাধে’ গত সোমবার তাঁদের বহিষ্কার করেছিল মমতার দল। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পরেই দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনই রয়েছে ঋতব্রত-সন্দীপনদের দিকে!
ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত এবং সন্দীপন ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছিল। ছিল সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি সাহার নাম। মুখ্যসচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল আখরুজ্জামানের নাম। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের সভানেত্রী বলে উল্লেখ করেন বিদ্রোহীরা।
বুধবার ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত। একে একে অন্য বিধায়কেরাও পৌঁছোন। বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিধানসভার কাউন্সিল চেম্বারে বৈঠক করেন। ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠকের পর তাঁরা স্পিকারের ঘরে যান। ঋতব্রত এবং তাঁর শিবিরের তৃণমূল বিধায়কদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে স্পিকার নতুন বিরোধী দলনেতা এবং অন্য পদাধিকারীদের স্বীকৃতি দেন। নতুন বিরোধী দলনেতার জন্য বিধানসভার ঘর খুলে দেওয়া হয়। সেই ঘরে বসেই সাংবাদিক বৈঠক করেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কেরা।
বিরোধী দলনেতা হওয়ার পরে ঋতব্রত জানান, তৃণমূলের টিকিটে জয় পাওয়া দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিধানসভায় শাসক বিজেপির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করবেন বলেও দাবি তাঁর। একদা সিপিএম এবং অধুনা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা বলেন, ‘‘আপাতত ৫৮ জন। আরও দু’জন আছেন। তাঁরা এখন রাজ্যের বাইরে আছেন। তাঁদের সম্মতি রয়েছে। তাঁদের সমর্থন এলে এই সংখ্যা ৬০ হবে।’’ পাশাপাশি, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আবেদন করেন ঋতব্রত। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের দূর-দূরান্তের সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ‘ভাল কাজ’ সমর্থনেরও ঘোষণা করেন।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেবকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত এবং সন্দীপনই সই জাল করার বিষয়টি বিধানসভাকে জানান। তার পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করছে সিআইডি। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই সিআইডি কয়েক জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।