জলাশয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে ভিয়েতনাম-কই

আমাদের দেশি কই মাছের বাড় খুব কম। তাই বাংলাদেশের মতো থাই কই চাষ করা শুরু করেছি। কিন্তু থাই কইয়ের সমস্যা হল, কিছু তুললে বাকিরা খাওয়া বন্ধ করে দেয়। সমস্ত মাছ তুলে নিতে হয়। এতে বাজার দর কমে যায়, মুনাফা কমে। সেই জন্য বাংলাদেশে এখন ভিয়েতনাম কই চাষ হচ্ছে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০১৬ ০০:৩৪
Share:

সমীরণ পাত্র

Advertisement

আমাদের দেশি কই মাছের বাড় খুব কম। তাই বাংলাদেশের মতো থাই কই চাষ করা শুরু করেছি। কিন্তু থাই কইয়ের সমস্যা হল, কিছু তুললে বাকিরা খাওয়া বন্ধ করে দেয়। সমস্ত মাছ তুলে নিতে হয়। এতে বাজার দর কমে যায়, মুনাফা কমে। সেই জন্য বাংলাদেশে এখন ভিয়েতনাম কই চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনামের স্থানীয় এই মাছটির বাড় বেশি। চার মাসে ২০০-২৫০ গ্রাম গড় ওজন নয়। দেশি কই মাছের মতোই স্বাদের হওয়ায় বাজারে ভাল দাম আছে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের জলবায়ুতে চাষ করা যায়। অল্প জায়গা হলেও হবে। এমনকী একক ভাবে না করে মিশ্র পদ্ধতিতেও ভিয়েতনাম কই চায করা যায়।

Advertisement

পুকুর নির্বাচন

কম কাদা যুক্ত এবং ৪-৬ মাস জল বা সারা বছর জল থাকে এমন পুকুর দরকার। তলদেশে যদি সামান্য বালি থাকে, তাহলে ভাল। পুকুরের আয়তন ৫-১০ কাঠা হলেই হবে। তার বেশি হলেও ক্ষতি নেই। জলের গভীরতা সাড়ে তিন থেকে চার ফুটের মধ্যে থাকলে ভাল।

Advertisement

প্রস্তুতি

পুকুরে জল থাকলে তা তুলে নিয়ে রাক্ষুসে মাছ সরাতে হবে। পুকুরের তলদেশ শুকিয়ে নিলেই ভাল হয়। এক ফুটের মতো পাঁক থাকতে হবে। পুকুরের পাড়ে বড় গাছপালা থাকলে তা কেটে ফেলতে হবে। পাড় ঢাল না করে খাঁড়াই করতে হবে অথবা চার পাশে বাঁশের বেড়া বা মশারি নেট দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। বিঘাতে ২০ কেজি কলিচুন বা ব্লিচিং প্রয়োগ করে তিন দিন পর পুকুরে জল ঢোকাতে হবে। তারও দু’-তিন দিন পরে কইয়ের চারা (২.৫-৩ সেমি) মজুত করতে হবে। মুর্শিদাবাদ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে চারা পাওয়া যাবে। চারা যেখান থেকেই নিন, যেন সুস্থ-সবল হয়। ০.১৫-০.২০ গ্রাম ওজনের চারা বা কেজি প্রতি পাঁচ থেকে ছয় হাজার চারা ব্যবহার করা যেতে পারে। একক চাষে চারার সংখ্যা বিঘা প্রতি দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার। মিশ্র চাষে এই সংখ্যা সাত থেকে আট হাজার।

পরিচর্যা

ভিয়েতনাম কই মাছ চাষ করতে হলে ৩০-৪০% প্রোটিনয়ুক্ত খাবার দিতে হবে। এই মাছের জন্য তৈরি করা খাবার বা পেলেটেড খাবার ভাল। ভাসমান খাবার হলে ভাল হয়। মাছ নিয়মিত খাবার খাচ্ছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতি ৭-১০ দিন অন্তর একবার টানা জাল দিয়ে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। চারা মজুতের এক মাস পর থেকে বিঘা প্রতি ৫ কেজি জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে। চারা ছাড়ার এক মাস পর থেকে প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর ২০-৩০% জল পরিবর্তন করে নতুন জল ঢোকাতে হবে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর জলের পিএইচ, তাপমাত্রা, অক্সিজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখে নিলে ভাল।

রোগ ও স্বাস্থ্য

মাছের রোগ যাতে না হয়, সে জন্য চাষিদের সতর্ক থাকতে হবে। সবার আগে সঠিক মাপের ও রোগমুক্ত স্বাস্থ্যবান চারা ছাড়তে হবে। অতিরিক্ত চারা ছাড়া ঠিক নয়। প্রতিবার চারা ছাড়ার আগে পুকুর শুকিয়ে নিতে পারলে ভাল। মেঘলা আবহাওয়ায় বা অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে খাবার দেওয়া ঠিক নয়। দিলেও সামান্য পরিমাণে। নিয়মিত জাল টানা জরুরি। পানকৌড়ি, বক ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পুকুরে দড়ি বেঁধে দেওয়া যায়।

মাছ সংগ্রহ

৩-৪ মাসে কইয়ের গড় ওজন ২০০-২৫০ গ্রাম হবে। জাল টেনে বা পুকুর শুকিয়ে মাছ ধরা যায়। বিঘা প্রতি ১০-১৫ কুইন্ট্যাল মাছ মিলবে।

লেখক মুর্শিদাবাদ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের মৎস্য বিশেষজ্ঞ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement