সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সম্ভব নয়। কিন্তু এ রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচানো’র লড়াইয়ে কংগ্রেসের ভূমিকাকে যে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন, কৌশলে এ বার তা বুঝিয়ে দিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস। কলকাতায় দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের পরে মঙ্গলবার প্রশ্নের জবাবে দেবব্রতবাবু বলেছেন, ‘‘কংগ্রেস তার মতো লড়বে। যেখানে তাদের শক্তি বেশি, সেখানে মানুষ তাদেরই ভোট দেবেন!’’
নীতিগত ভাবে ফ ব কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি হাত মেলানোর পক্ষপাতী নয়। দলের সেই অবস্থানের কথা এ দিনও স্পষ্ট করে দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু একই সঙ্গে বলেছেন, ‘‘আমরা মনে করি, বাম শক্তিকেই ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী করতে হবে। বৃহত্তর মানুষের সমাবেশ ঘটাতে হবে। কংগ্রেসের মানুষও সেখানে থাকবেন।’’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সিপিএম শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলে ফ ব কী করবে? দেবব্রতবাবুর জবাব, ‘‘এই কল্পনানির্ভর প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই! কারণ আমি জানি, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং পলিটব্যুরোর শেষ বৈঠকেও এ রকম কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সকলেই বাম ঐক্যকে দৃঢ় করতে চায়।’’ কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বা আসন বণ্টনের বিরোধিতা করলেও ফ ব নেতৃত্ব অবশ্য কৌশলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেখানে কংগ্রেস শক্তিশালী, সেখানে তাদেরই আগে রাখতে হবে।
বস্তুত, আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের মোকাবিলায় বৃহত্তর জোট গড়া নিয়ে বামফ্রন্টের মধ্যে এখন নিরন্তর চর্চা চলছে। কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো নেতারা বাম গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জোট গড়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন সিপিএমের ভিতরে-বাইরে। আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক ক্ষিতি গোস্বামীও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা কেউই সরাসরি কংগ্রেসের নাম করেননি। জোট না করেও বাম-কংগ্রেসের শক্তিকে এক জায়গায় আনার কৌশলের পক্ষেই মত দিচ্ছেন তাঁরা।
দেবব্রতবাবু জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস পি তিওয়ারিকে দল-বিরোধী কাজের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন টিইউসিসি-র সাধারণ সম্পাদক তিওয়ারিকে ওই সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিওয়ারির অবশ্য পাল্টা দাবি, তিনি দলে গোষ্ঠী-বাজির শিকার। কলকাতায় ৭ জানুয়ারি পাল্টা বৈঠক ডেকে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।