যথা সময়ে উত্তর, দাবি মোর্চার

গোর্খাল্যান্ড বিবেচনায় নেই, জানাল দিল্লি

যশবন্ত সিংহ থেকে সুরেন্দ্রসিংহ অহলুওয়ালিয়া, ভোটের প্রচারে এসে সকলেই গোর্খাল্যান্ড নিয়ে সহানুভূতিশীল থাকার কথা বলেছেন পাহাড়ে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ অগস্ট ২০১৬ ০১:০৯
Share:

যশবন্ত সিংহ থেকে সুরেন্দ্রসিংহ অহলুওয়ালিয়া, ভোটের প্রচারে এসে সকলেই গোর্খাল্যান্ড নিয়ে সহানুভূতিশীল থাকার কথা বলেছেন পাহাড়ে। জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কাজ কতটা হয়েছে? সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার আইনে গোর্খাল্যান্ড সম্পর্কে দিল্লির অবস্থান জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে প্রশ্ন করে জিএনএলএফ। জবাবে মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কিছুই ভাবছে না।

Advertisement

সরকারি ভাবে এ কথা জানার পরে মোর্চার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানোর হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছে জিএনএলএফ। তাদের দাবি, গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে যে মোর্চা এত হইচই করে, অথচ তাদের শরিক সরকারই এখন পর্যন্ত সে সব নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেনি। জিএনএলএফের আইনি উপদেষ্টা নীরজ জিম্বা তথ্য জানার আইনে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি সঙ্গে আরও দু’টি প্রশ্ন করেছিলেন— কোন দল প্রথম গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলেছিল এবং এখন পর্যন্ত কতগুলি দল এই দাবি জানিয়েছে। এই দুই প্রশ্নের জবাব অবশ্য কেন্দ্র দেয়নি। কিন্তু জিএনএলএফ বলছে, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব তারা পেয়ে গিয়েছে।

জিম্বার অভিযোগ, ‘‘মোর্চা মাঝেমধ্যেই দাবি করে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দাবি বিবেচনা করছে। কখনও আবার পাহাড়বাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলে, গোর্খাল্যান্ড পাওয়া নাকি সময়ের অপেক্ষা। এগুলি যে সবই স্রেফ মিথ্যে তা প্রমাণিত হয়ে গেল।’’ সম্প্রতি জিএনএলএফের সঙ্গে শাসক দল তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা পাহাড়ে আলোচনার বিষয়। এই ব্যাপারেও দু’দলের মধ্যে যোগসাজশে কাজ হয়েছে কি না, তাই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে চলতি বছরের শেষে পাহাড়ে পুরসভার ভোট রয়েছে। তার আগে বিমল গুরুঙ্গদের আরও কোণঠাসা করে ফেলতে তৃণমূল পুরোদস্তুর তৈরি। পাহাড়ে তাদের সঙ্গে জিএনএলএফ ছাড়াও রয়েছে মদন তামাঙ্গের গোর্খা লিগ এবং হরকা বাহাদুরের দল জাপ। এই সম্মিলিত চাপে নতুন মাত্রা যোগ করল গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান। মোর্চা অবশ্য জিএনএলএফের অভিযোগ খণ্ডন করতে প্রকাশ্যে পাল্টা আক্রমণের নীতি নিয়েছে। মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, ‘‘জিএনএলএফ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এখন কেন্দ্র বিবেচনা করছে না— এই কথা বলা মানে এই নয় যে, ভবিষ্যতেও করবে না। যথা সময়ে সকলে উত্তর পেয়ে যাবেন।’’

Advertisement

কেন্দ্রের উপরে চাপ বাড়াতে কি মোর্চা ফের জঙ্গি আন্দোলন শুরু করবে? এখনও পর্যন্ত কিন্তু এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন মোর্চা নেতৃত্ব।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement