প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
রেল, সড়ক বা বিদ্যুৎ-জমি অধিগ্রহণের জটে মোদী সরকারের বড় মাপের পরিকাঠামো প্রকল্প আটকে যাচ্ছে। এই জট কাটাতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিভিন্ন মন্ত্রক, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরে ইউপিএ-সরকারের তৈরি জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইনে কোনও সংশোধনের পথে মোদী সরকার হাঁটতে চাইছে না। আজ মোদী সরকারের ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথন জানিয়েছেন, ‘‘জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইনে সংশোধন করার কোনও পরিকল্পনা নেই।’’ শিল্পমহল অবশ্য বহু দিন ধরেই এই আইনে সংশোধনের দাবি তুলছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পরিকাঠামো বা শিল্পের জন্য জমির প্রয়োজন এবং কৃষক তথা জমির মালিকদের ইচ্ছের মধ্যে ‘ভারসাম্য’ রেখেই এগোতে চাইছে মোদী সরকার।
ক্যাবিনেট সচিব জানান, যেখানে বনাঞ্চলে গাছ কাটার পরিপূরক হিসেবে গাছ লাগানো সম্ভব হবে, সেখানে বনাঞ্চল কেটে রেল, সড়ক বানানোর সমস্যা মেটাতে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ বা জমি ব্যাঙ্ক বানানো হবে।
শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-কলিঙ্গনগরে তীব্র আন্দোলন হয় ২০০৬-০৭ সালে। তার পরে ইউপিএ সরকার ব্রিটিশ জমানার জমি অধিগ্রহণ আইন বদলে ২০১৩ সালে নতুন জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইন তৈরি করেছিল। জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসনের শর্ত আরও কড়া হয়। মোদী সরকার এগারো বছর আগে ক্ষমতায় এসেই তা সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যাতে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ সহজ হয়। কিন্তু লোকসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মোদী সরকার অধ্যাদেশ পাশ করাতে পারেনি। রাহুল গান্ধীর ‘স্যুট বুট কি সরকার’ বলে আক্রমণের মুখে মোদী সরকার পিছু হটে।
জমি অধিগ্রহণ, বনাঞ্চল, পরিবেশের ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতায় বছরের পর বছর আটকে থাকা পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজে গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এর পরে ‘প্রগতি’ বৈঠক চালু করেন। যেখানে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পের জট ছাড়াতে সমস্ত মন্ত্রক, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত ৫০টি প্রগতি বৈঠক হয়েছে। আজ ক্যাবিনেট সচিব জানিয়েছেন, ৮৫ লক্ষ কোটি টাকার ৩,৩০০টির বেশি প্রকল্পের ৭,৭৩৫টি সমস্যা নিয়ে ‘প্রগতি’-তে আলোচনা হয়েছে। এর ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। ৭,১৫৬টি সমস্যা মেটানো গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নিজে ৩৮২টি প্রকল্পে হস্তক্ষেপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্তরে মোট ৩,১৮৭টি সমস্যার মধ্যে এখনও ২,৯৫৮টি সমস্যার সমাধান করা গিয়েছে। এর ৪২ শতাংশ ক্ষেত্রেই জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। রেলের প্রকল্পের সমস্যার ৫০ শতাংশ, সড়ক প্রকল্পে ৫৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। জমি অধিগ্রহণের সমস্যা মেটাতে জেলাশাসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ বন্দোবস্ত হচ্ছে। এত কাঠখড় পোড়ানো হলেও জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধনের কথা ভাবছে না। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, যখন বিজেপির কাছে একার জোরে কেন্দ্রে সরকার চালানোর সংখ্যা ছিল, তখনই জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধন করা যায়নি। এখন শরিক নির্ভর সরকারের পক্ষে সেই ঝুঁকি নেওয়া কঠিন।
কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলিকেও এই ‘প্রগতি’ ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ইতিমধ্যেই তা কাজে লাগাচ্ছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে