তারাপীঠে জমি জটেই থমকে হেলিপ্যাড

জেলার এক প্রান্তে বেবাক ফাঁকাই পড়ে থাকে হেলিপ্যাড। কপ্টার আর নামে না! অন্য প্রান্তে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় বিশ বাঁও জলে হেলিপ্যাড। তারাপীঠ ও শান্তিনিকেতন— বীরভূমের এই দুই প্রান্তের দুই পর্যটন কেন্দ্রের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত হেলিকপ্টার পরিষেবার এমনই বেহাল দশা।

Advertisement

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:০৩
Share:

খেলার মাঠে কপ্টার। ফাইল চিত্র।

জেলার এক প্রান্তে বেবাক ফাঁকাই পড়ে থাকে হেলিপ্যাড। কপ্টার আর নামে না! অন্য প্রান্তে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় বিশ বাঁও জলে হেলিপ্যাড। তারাপীঠ ও শান্তিনিকেতন— বীরভূমের এই দুই প্রান্তের দুই পর্যটন কেন্দ্রের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত হেলিকপ্টার পরিষেবার এমনই বেহাল দশা। কবে চালু হবে পরিষেবা, সদুত্তর নেই জেলা প্রশাসনের কাছেও।

Advertisement

বছর দুয়েক আগে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বেশ কিছু মফস্বল শহর এবং পর্যটনের জায়গার সঙ্গে কলকাতার দ্রুত যোগাযোগের জন্য হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সে তালিকায় ছিল তারাপীঠ ও শান্তিনিকেতনেের কথা। নানা টালবাহানার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো চালু হয়েছিল কলকাতা-শান্তিনিকেতন কপ্টার পরিষেবা। ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কপ্টার ওড়া শুরু হলেও তা বেশিদিন চলেনি। কয়েক মাস চলার পর ফের বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই পরিষেবা। ফাঁকাই পড়ে থাকে হেলিপ্যাড!

সংশ্লিষ্ট পবন হংস সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফি সপ্তাহে এক দিন করে ওই কপ্টার পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। সাত আসন বিশিষ্ট ওই কপ্টারে যাত্রী পিছু দেড় হাজার টাকা করে এক পিঠের ভাড়া ধার্য হয়। রাজ্য পরিবহন দফতর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা থেকে বোলপুর-শান্তিনিকেতন আসা এবং ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় যাত্রী না হলে, দুর্গাপুর হয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতন ফেরার জন্য এক পিঠে ৪৫ মিনিট সময় নেওয়ার কথা ওই কপ্টারের। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি কোনও কিছুরই!

Advertisement

রাজ্যের পরিবহন দফতরের উদ্যোগে তারাপীঠেও ওই পরিষেবা চালু হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো রামপুরহাট-সাঁইথিয়া রাস্তার উপর চিলা সেতু সংলগ্ন মাঠে হেলিপ্যাড তৈরির জন্য জায়গাও বেছে নেয় রাজ্য সরকার। একাধিক বার ট্রায়ালের পর অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিল পরিকল্পনার কাজ। আর এরপরই এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ খেলার মাঠ বাঁচাতে হেলিপ্যাড তৈরির কাজে আপত্তি জানায়। তাঁদের দাবি, এলাকায় খেলার মাঠ বলতে ওই একটিই। ওই মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট খেলার প্রতিযোগিতা হয়।

ঘটনা হল, বড়শাল, খরুন, দখলবাটি, সাহাপুর, বুধিগ্রাম, কুশুম্বা, নারায়ণপুর, আয়াষ, মাসড়া রামপুরহাট ১ ও ২ এই দুই ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চলগুলি ছাড়াও রামপুরহাট শহরের ক্রীড়াপ্রেমী হাজার হাজার মানুষ এই মাঠে প্রতিযোগিতাগুলি দেখতে আসে। এছাড়াও এলাকার স্কুলগুলির ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এই মাঠেও হয়। তাই খেলার মাঠ ধ্বংস করা যাবে না ইস্যুতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের একমাত্র মাঠকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। এরফলে তারাপীঠ হেলিপ্যাড তৈরির জন্য বিকল্প জায়গার সন্ধান করতে বলা হয় প্রশাসনকে। ইতিমধ্যে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ গঠিত হয়। তাঁদের তরফ থেকে নতুন করে তারাপীঠে হেলিপ্যাড তৈরির জায়গা খোঁজার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রামপুরহাট ১ ব্লক এবং রামপুরহাট ২ ব্লক এই দুই ব্লকের বিএলআরওদের প্রতি তারাপীঠের আশ পাশ এলাকায় সরকারি খাস জায়গা খোঁজ করার জন্য নির্দেশ আসে। রামপুরহাট ২ ব্লকের অধীন সাহাপুর মৌজায় খাস জায়গা পাওয়া নিয়ে সমস্যা থাকার জন্য রামপুরহাট ১ ব্লকের বিএলআরও দফতরের কর্মীদের হেলিপ্যাডের জায়গা খোঁজার দায়িত্ব পড়ে। রামপুরহাট ১ ব্লক বিএলআরও দফতর সূত্রে জানা যায়, হেলিপ্যাড তৈরির জন্য এক একর জায়গা প্রয়োজন। সেই মতো জায়গা খোঁজার জন্য তারাপীঠ যাওয়ার আগে কবিচন্দ্রপুর, কৌড় মৌজায় জায়গা সন্ধান করা হয়। শেষমেষ কৌড় মৌজার অধীন রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ যাওয়ার আগে উদয়পুর মোড় পেরিয়ে ডানদিকে এক একর জায়গা সন্ধান মেলে। এবং তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিক হিসাবে জেলাশাসক পি মোহন গাঁধী ওই জায়গা পরিদর্শন করে দেখেন।

জায়গা পাওয়ার পরও কেন হেলিপ্যাড হয়নি?

রামপুরহাট মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক প্রবীর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হেলিপ্যাড তৈরির জন্য এক একর জায়গা জেলা প্রশাসন এবং তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে দেওয়া হয়েছে। তবে জায়গাটি বনদফতরের। এর পরে কি পর্যায়ে আছে সেটা তাঁরা বলতে পারবেন।’’ বনদফতরের তুম্বনি রেঞ্জের বিট অফিসার অরিন্দম কাঞ্জিলাল বলেন, ‘‘মাস দুয়েক আগে দফতরের কাছে কোনও চিঠি না পাঠিয়ে মৌখিক ভাবে জানিয়ে তারাপীঠ লাগোয়া আমাদের যেখানে গাছ লাগানো আছে সেখানে কিছু গাছ উপড়ে ফেলে দিয়ে জেসিবি যন্ত্র নামানো হয়েছিল। খবর পেয়ে আমি আপত্তি জানিয়ে যন্ত্র উঠিয়ে দেয়। এবং এ ব্যপারে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং আমাদের দফতরের উপরমহলের আধিকারিকদের জানিয়েছিলাম।’’

হেলিপ্যাডের জন্য প্রস্তাবিত নতুন জায়গা দেখছে প্রতিনিধি দল

কার্যত সেই তখনই কাজ থেমে যাওয়ার পর আর এগোয়নি। অরিন্দম কাঞ্জিলালের দাবি, ‘‘বনদফতরের লিখিত অনুমোদন এবং জমির চরিত্র বদল ছাড়া হেলিপ্যাড তৈরির কাজ করতে গেলে আমি আবার আপত্তি জানাব।’’ এদিকে বনদফতরের অনুমতি ছাড়া তারাপীঠে হেলিপ্যাড তৈরি প্রসঙ্গে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) উমাশঙ্কর এস বলেন, ‘‘তারাপীঠে হেলিপ্যাড তৈরির জন্য জায়গা প্রয়োজন। বনদফতরের জায়গা দেখা হয়েছে। তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন। ওই দফতরের আধিকারিকের কাছে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। দেখা যাক কী হয়!’’

তাঁর আশ্বাস, ‘‘প্রস্তাবিত জায়গা না পেলে, অস্থায়ী ভাবে তারাপীঠের খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় হেলিপ্যাড করা হবে। পরে জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা কেটে গেলে স্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement