মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনায় দিঘায় তৈরি হয়েছে জগন্নাথ ধাম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত দিঘার জগন্নাথ ধাম নির্মাণের দায়িত্বে ছিল হিডকো। এ বার তারাই দিঘায় হোটেল নির্মাণ করতে চলেছে। মঙ্গলবার এই মর্মে জোড়া দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম।
হিডকো প্রকাশিত প্রথম বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়েছে, দিঘার পশ্চিম গদাধরপুর মৌজায় ৩৪টি প্লটে এই হোটেল নির্মাণ করা হবে। মোট জমির পরিমাণ ৬.৮৮ একর। দ্বিতীয় দরপত্রের বিজ্ঞপ্তিতে ১২টি প্লটের উল্লেখ করা হয়েছে। যার মোট জমির পরিমাণ ২.২৯ একর। অর্থাৎ, প্রায় ১০ একর জমিতে এই হোটেল নির্মাণ করবে হিডকো। আগামী ১৮ মার্চ এই দরপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ‘ই-অকশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দরপত্র চূড়ান্ত করবে হিডকো। কারা দরপত্র জমা দিতে পারবেন, তারও মানদণ্ড নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এমন সংস্থাই ‘ই-অকশন’ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবে, যাদের গত তিনটি আর্থিক বছরের প্রত্যেকটিতে ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
তবে যে সময়ে দরপত্র চূড়ান্ত হওয়ার কথা, সব ঠিক থাকলে তার আগে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। যদিও হোটেল নির্মাণের কাজ শেষ করার ব্যাপারে পাঁচ বছর সময়সীমা রাখছে হিডকো। হিডকো সূত্রের খবর, কমবেশি ২০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে এই নির্মাণে। কয়েক মাস আগেই হিডকোর চেয়ারম্যানপদে বদল করেছে নবান্ন। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। হোটেল নির্মাণের প্রসঙ্গে বুধবার চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘দিঘায় এমনিতেই পর্যটক সমাগম বাড়ছে। জগন্নাথ ধাম নির্মাণের পরে তাতে আরও গতি এসেছে। সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই হিডকো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’
গত বছর এপ্রিল মাসে অক্ষয়তৃতীয়ার দিন দিঘার জগন্নাথ ধামের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে আট মাস অতিক্রম করার আগেই জগন্নাথ ধামে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ কোটির মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছে। পুরীর মন্দিরের ধাঁচে সেখানে ধ্বজাদানের বন্দোবস্তও করে ফেলেছেন কর্তৃপক্ষ। অগ্রিম বুকিংয়ের মাধ্যমে মিলছে তিন বেলা আট রকম মহাপ্রসাদ। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পরে নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গন এবং শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণেরও দায়িত্ব পেয়েছে হিডকো। দু’টি প্রকল্পেরই শিলান্যাস হয়ে গিয়েছে। এ বার দিঘায় হোটেল নির্মাণ করতে চলেছে তারা।