মহিলা ভবঘুরে আবাসের দুর্দশায় দুরমুশ রাজ্যকেই

শিশু-কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন হোমের দুর্নীতি ও দুরবস্থা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট বারংবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ বার ভবঘুরেদের হোম, বিশেষ করে মহিলা ভবঘুরেদের আবাসের সমস্যা নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করল তারা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:০২
Share:

শিশু-কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন হোমের দুর্নীতি ও দুরবস্থা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট বারংবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ বার ভবঘুরেদের হোম, বিশেষ করে মহিলা ভবঘুরেদের আবাসের সমস্যা নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করল তারা। ওই সব আবাসের বাসিন্দাদের জন্য ন্যূনতম যে-সব ব্যবস্থা করা উচিত, রাজ্য সরকার তা করছে না বলে শুক্রবার মন্তব্য করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর নিজেই।

Advertisement

উত্তরপাড়ার মহিলা ভবঘুরে আবাসের বাসিন্দাদের দুরবস্থা নিয়ে একটি মামলায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ওই আবাসের মহিলারা চিকিৎসা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ভবঘুরেদের জীবনধারণের ন্যূনতম বন্দোবস্তের ব্যাপারেও রাজ্য উদাসীন ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। শুক্রবার জনস্বার্থে দায়ের হওয়া ওই মামলার শুনানিতে তিনি জানতে চান, ওই আবাসের বাসিন্দাদের দেখাশোনার কী ব্যবস্থা করছে সরকার? হাইকোর্টের লিগ্যাল এড সার্ভিস কমিটিকে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, ওই আবাসের বাসিন্দাদের দুরবস্থার অবসান ঘটাতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাঁকেই তার তত্ত্বাবধান করতে হবে।

রাজ্যের সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রের খবর, উত্তরপাড়ার রাজমোহন রোডের ওই ভবঘুরে আবাস নিয়ে সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে ভবঘুরে মহিলাদের মানসিক বা শারীরিক চিকিৎসা হয় না। তাঁরা জামাকাপড় পান না। খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ। অনেক ভবঘুরে মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ওই আবাসে যান। সেখানেই প্রসব হয়। কিন্তু সেই শিশুরা চিকিৎসা পায় না।

Advertisement

প্রধান বিচারপতি এই অভিযোগ পেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাও দায়ের করার নির্দেশ দেন। মামলায় হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী জয়দীপ করকে ‘আদালত-বান্ধব’ নিযুক্ত করে ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের মহিলা ও শিশু কল্যাণ দফতরকে ওই ভবঘুরে আবাস নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই ভবঘুরে আবাস নিয়ে মহিলা ও শিশু কল্যাণ দফতরের যুগ্মসচিব তাপসকুমার নাথ সম্প্রতি একটি হলফনামায় জানান, ওই আবাসে ১৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু গাদাগাদি করে আছেন ২৫৬ জন। পূর্ত দফতর সম্প্রতি আবাসটির সং‌স্কার করেছে। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ সেই হলফনামায় সন্তুষ্ট হয়নি। তারা এ দিন সরকারি কৌঁসুলি তপন মুখোপাধ্যায় ও বিকাশ মুখোপাধ্যায়কে জানায়, এই ধরনের হোম বা ভবঘুরে আবাসের বাসিন্দাদেদের জন্য যা যা করা উচিত, সরকার তা করছে না। উত্তরপাড়ার ওই আবাসের মহিলাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগের ব্যবস্থা করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement