—প্রতীকী চিত্র।
স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের বর্ধিত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য যাত্রীদের রাজধানী এক্সপ্রেসের তুলনায় বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। ওই ট্রেনের ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী ফ্লেক্সি ফেয়ার চালু করার কথা এখনও জানায়নি রেল। তবে তার পরেও নতুন ট্রেনের কিলোমিটার প্রতি ভাড়া পাঁচ দশকের পুরনো রাজধানী এক্সপ্রেসের তুলনায় বেশি পড়বে বলে জানাচ্ছেন রেলের কর্তাদের একাংশ।
হাওড়া-কামাখ্যা রুটে শনিবার চালু হওয়া স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস প্রায় ১০১৭ কিলোমিটার দূরত্ব যেতে ১৪ ঘণ্টা সময় নেবে। এই ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সমর্থ হলেও হাওড়া-কামাখ্যা পথে এই ট্রেনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটারের সামান্য বেশি থাকবে। এর পরেও রাজধানী থ্রি-টিয়ারে যেখানে গড়ে কিলোমিটার পিছু ২.১ টাকা হারে ভাড়া গুণতে হয় সেখানে স্লিপার বন্দে ভারতে কিলোমিটার প্রতি ২.৪ টাকা ভাড়া দিতে হবে। রাজধানী এক্সপ্রেসের এসি টু-টিয়ারে প্রতি কিলোমিটারে ২.৮৫ টাকা হারে ভাড়া গুণতে হয়, সেখানে স্লিপার বন্দে ভারতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ৩.১ টাকা। ফার্স্ট এসির ক্ষেত্রে রাজধানী এবং স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ৩.৫৩ এবং ৩.৮ টাকা। পাশাপাশি স্লিপার বন্দে ভারতে যাত্রীদের ন্যূনতম ৪০০ কিলোমিটারের ভাড়া গুণতে হবে।
রাজধানীর থেকেও বন্দে ভারতে ভাড়া বেশি কেন, সে প্রসঙ্গে রেল সূত্রের দাবি, এই ট্রেনে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য রাজধানীর থেকে বেশি। রেলের দাবি, নতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে মসৃণ সফরের জন্য বাফার কাপলিং, সাসপেনশনে প্রযুক্তিগত বদল আনা হয়েছে। ট্রেনের কামরায় আলো, শৌচাগার, ডিসপ্লে বোর্ড, দু’টি কামরার মাঝের ভেস্টিবিউলে একাধিক বদল আনা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির শৌচাগারে স্নানের জন্য গরম জল মিলবে। দুর্ঘটনা ঠেকাতে কবচ প্রযুক্তি বসানো হয়েছে।
স্লিপার বন্দে ভারত রাজধানী এবং দুরন্ত এক্সপ্রেসের উপরে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চেয়ার কার সংস্করণ চালু হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে চালু থাকা শতাব্দী এক্সপ্রেসের গুরুত্ব কমেছে। মূলত, দিনের বেলা মাঝারি দূরত্বে ৩০০ থেকে৭৫০ কিলোমিটার পথে দ্রুত সফরের লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে জওহরলাল নেহরুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শতাব্দী এক্সপ্রেস চালু করা হয়েছিল। এলএইচবি কামরা ব্যবহার করে ছুটলেও বহু দিন শতাব্দীতে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ হয়নি। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে স্টপেজের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ায় গতিও কমেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দেশে বহু শতাব্দী এক্সপ্রেসেই কামরার সংখ্যা কমেছে এবং পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের মান খারাপ হয়েছে।
রেলকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, এ বার শতাব্দীর মতো রাজধানী এবং দুরন্ত এক্সপ্রেসের দশাও বেহাল হবে না তো? যদিও যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, দেশের প্রায় সব রুটেরই দুরন্ত এক্সপ্রেসের পরিষেবা এবং রক্ষণাবেক্ষণের মান পড়ে গিয়েছে। রেলের একাংশের দাবি, রাজধানী এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে ওই পরিস্থিতি অবশ্য এখনও ততটা খারাপ হয়নি। বরং ‘তেজস’ গোত্রের কামরা নিয়ে ছোটা কিছু রাজধানী এক্সপ্রেসের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য প্রায় স্লিপার বন্দেভারতের সমতুল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে